
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যার ঘটনায় র্যাব-৭ আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানটি নগরের খুলশী ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পরিচালনা করা হয়।
র্যাব-৭ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মিজান (৫৩) ও মো. মামুন (৩৮)। মিজান এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই এজাহারভুক্ত আসামি, এবং তার বাড়ি চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকায়। অপর গ্রেপ্তারকৃত মামুন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় থাকে।
গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসী হামলায় র্যাব-৭ এর উপসহকারি পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। একই ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন।
এই ঘটনায় ২২ জানুয়ারি সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করা হয় এবং ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০–২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, র্যাব সদস্যরা আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে তাদের ওপর সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে, একজন আটক আসামি ছিনিয়ে নেয় এবং চার র্যাব সদস্যকে অপহরণ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।
জঙ্গল সলিমপুর অঞ্চলে কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করে আসছে। গত বছরের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় দখল ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ, খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি দুটি সন্ত্রাসী পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে দুই সাংবাদিকও হামলার শিকার হন।
এ অঞ্চলের দুটি সন্ত্রাসী পক্ষের একজন নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন, যিনি পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও নিষিদ্ধ নেতার অনুসারী ছিলেন। অন্য পক্ষের নেতা রোকন উদ্দিন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। র্যাব কর্মকর্তা হত্যার পেছনেও এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের প্রভাব রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একটি পক্ষ র্যাবকে ভুল তথ্য দিয়ে অন্য পক্ষকে ফাঁস করার চেষ্টা করেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষই ঘটনার সাথে নিজেদের সম্পর্ক অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মোহাম্মদ ইয়াসিনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে তিনি র্যাবের অভিযানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে, সলিমপুরে অভিযান না করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, অভিযানের আগে আসামির নাম-ঠিকানা জানাতে হবে, অন্যথায় জনবিস্ফোরণের দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে।
মন্তব্য করুন