
পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলার বাজার এলাকায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ট্রাক প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭-৮ জন আহত হয়েছেন।
নুরুল হক নুরের সমর্থক ও চরবোরহান ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মহিবুল্লাহ হাওলাদার জানান, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে স্থানীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার সময় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকরা ঘোড়া প্রতীকের স্লোগান দিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। হামলার নেতৃত্ব দেন চরবোরহান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রেজাউল গাজী, সাবেক ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলাম জুয়েল ও সদস্যসচিব আসাদুল জোমাদ্দার।
মহিবুল্লাহ হাওলাদারের দাবি, হামলাকারীরা চেয়ার ফেলে ভাঙচুর চালায় এবং লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র ব্যবহার করে। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও কিছু সময় হামলা চলতে থাকে। এতে দশমিনা উপজেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ, চরবোরহান ইউনিয়ন যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মাসুদ, এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সঙ্গে যুক্ত মো. মুছা আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরে পুলিশ উভয় পক্ষকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অন্যদিকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থক ও চরবোরহান ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল নেতা আসাদুল ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একটি মিছিল বের করেছিলেন, যেখানে গণ অধিকার পরিষদের কর্মীরা হস্তক্ষেপ করে হাতাহাতি শুরু করে। এই ঘটনায় তাদের তিনজন আহত হন। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে আসাদুল ইসলাম এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাত মো. হাসনাইন পারভেজ জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন