
কক্সবাজারের রামু উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি অবিস্ফোরিত বোমা। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—গত প্রায় ১০ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বোমার ওপর দাঁড়িয়ে কাপড় ধুয়ে আসছিলেন, অথচ এর ভয়াবহ বিপদের বিষয়ে কেউই সচেতন ছিলেন না।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তিনি জানান, বোমাটি রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লট উখিয়াখোনা তচ্ছাখালী এলাকায় অবস্থিত একটি পুকুরের পাড় থেকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি জাপানি বাহিনীর তৈরি অবিস্ফোরিত বোমা হতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে পুকুরে থাকা বোমাটি কেউ তুলে পাড়ে রেখে যায়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে সেটিকে সাধারণ লোহার বস্তু ভেবে স্থানীয়রা কাপড় ধোয়ার কাজে ব্যবহার করতেন।
ঘটনাটি নজরে আসে যখন এক সচেতন স্থানীয় নাগরিক বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, বোমা উদ্ধারের পর পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাদের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার কার্যক্রম শুরু করেছে।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বোমাটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার পাশাপাশি, এটি যদি সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় প্রমাণিত হয়, তাহলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের একটি প্রস্তাবও উঠেছে।
রামুর ইতিহাস গবেষক ও আইনজীবী শিরূপন বড়ুয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বোমাটির দুটি ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এই বোমাটির ওপর বহু বছর ধরে মানুষ কাপড় কাচতো। যদি এতে আর কোনো বিস্ফোরক উপাদান না থাকে, তাহলে এটি সংরক্ষণ করা উচিত। এটি রামুর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বোমাটি সম্ভবত জাপানিদের তৈরি এবং বর্তমানে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা গেছে, বোমাটির আকার অনেকটা বড় গ্যাস সিলিন্ডারের মতো এবং দৈর্ঘ্যেও বেশ বড়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চমক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে রয়েছে ভয় ও শঙ্কা, অন্যদিকে রয়েছে ইতিহাস জানার আগ্রহ—এটি সত্যিই কি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বোমা? কীভাবে এটি এখানে এলো?
অনেক স্থানীয় বাসিন্দা এখন আতঙ্কিত। তারা বলছেন, বছরের পর বছর এই বোমার পাশে কাজ করলেও কখনো ভাবেননি এটি এতটা বিপজ্জনক হতে পারে। যদি এর ভেতরে বিস্ফোরক থেকে থাকে, তবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।
মন্তব্য করুন