
রংপুরের পীরগঞ্জে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের সময় জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজের চাবিকাঠি ও নেতৃত্ব যুবকদের হাতে তুলে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটের ক্ষেত্রে কেউ যেন হেলাফেলা করতে না পারে, এজন্য যুবকদের জুলাই যুদ্ধের মতো আবার লড়াই করতে হবে এবং জনগণের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সুযোগ পেলেই যুবকদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়া হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে বাবনপুর গ্রামে এই মন্তব্য করেন তিনি। ড. শফিকুর রহমান জানান, শহীদ আবু সাঈদ ও তার সঙ্গীরা আমাদের কাছে জীবন দিয়ে একটি দায়িত্ব ও আমানত রেখে গেছেন। আমরা তাদের মতো জীবন দিয়ে সেই আমানত রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল দুর্নীতি, সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ ও দুঃশাসনমুক্ত একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে এবং দেশের উন্নয়নে সকলে অংশগ্রহণ করবে।
ড. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, আমরা চাই এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে বসবাস করবে। বিপদের সময় আমরা দেশে ছিলাম, আছি এবং থাকব; কোনো অবস্থাতেই দেশত্যাগ করব না।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর কোনো ব্যক্তিগত বা নিজস্ব এজেন্ডা নেই। পাঁচ আগস্টের পর থেকে কোনো দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা হয়নি। বরং শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের জন্য জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এজন্য ১০টি দল একত্রিত হয়ে ৩০০ আসনের জন্য সমন্বিত প্রার্থী দিয়েছে।
ড. শফিকুর রহমান শহীদ আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হোক এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তিনি শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
জিয়ারতের পর ড. শফিকুর রহমান শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন, রংপুর-৬ আসনের প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এরপর জামায়াত আমীর গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন জনসভা ও নির্বাচনী সভায় অংশগ্রহণ করার জন্য রওয়ানা হন। একই দিনে উল্লাপাড়া ও পাবনায় অনুষ্ঠিত পথসভা এবং জনসভায়ও তিনি উপস্থিত থাকবেন।
মন্তব্য করুন