
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘সম্মিলিত নারী প্রয়াস’ এর আয়োজন করা মানববন্ধনে নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বিতর্কিত নিকাব মন্তব্যের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, সম্প্রতি মোশাররফ ঠাকুর নারীর হিজাব ও নিকাব নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধুমাত্র নারীর প্রতি অসম্মান নয়, বরং ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাতের সমতুল্য। মুসলিম নারীর নিকাবকে ইহুদি নারীদের অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে তুলনা করা তার বক্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিদ্বেষমূলক হিসেবে উপস্থাপন করে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হিজাব ও নিকাব পরিহিত শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বপূর্ণ পদে আসার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন রাজনৈতিক নেতার ধর্ম এবং নারীর পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার পরও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তাদের প্রশ্ন।
নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার বলেন, “টকশো ও সামাজিক আলোচনায় নারীর বিরুদ্ধে হুমকি ও অবমাননাকর ভাষার ব্যবহার দিন দিন উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মুসলিম নারীর ধর্মীয় পোশাক নিয়ে প্রকাশ্য অবমাননা হলেও সচেতন নারী অধিকারকেন্দ্রিক কিছু সংগঠনের নীরবতা গভীর চিন্তার বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, হিজাব ও নিকাব নারীর মেধা, নৈতিকতা বা সক্ষমতাকে আড়াল করে না। ধর্ম নারীদের যে মর্যাদা দিয়েছে, তা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। নারীর পোশাক ও বিশ্বাস নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা থাকলে নতুন বাংলাদেশ গঠনের দাবি বাস্তবায়িত হবে না।
মানববন্ধনের শেষে নাজমুন নাহার লিখিত প্রস্তাবনা পাঠ করেন, যেখানে দাবি করা হয়:
১. মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় পোশাক পরিধানের অধিকার সুরক্ষা করা।
৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিকাব নিয়ে বিভ্রান্তি ও কুরুচিপূর্ণ ট্রল বন্ধ করা, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা।
৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও জনসমাগমে নিকাব পরিহিত নারীদের বৈষম্য, হেনস্তা ও বুলিং থেকে রক্ষা করা।
৫. গণমাধ্যম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ধর্মীয় পোশাকের গুরুত্ব ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে আহ্বান।
৬. মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে তার বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে এবং বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।
এই কর্মসূচি থেকে একটি সুস্থ, সহনশীল ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল নাগরিককে অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার এবং যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
মন্তব্য করুন