
কুয়াশা ও হিমালয় থেকে আসা শীতল বাতাসের কারণে পঞ্চগড় জেলা হাড় কাঁপানো শীতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) তেতুলিয়া আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সকাল ৯টার সময় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। এছাড়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা ও তাপমাত্রার নিম্নগতি লক্ষ্য করা গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কগুলোতে চলাচলে যানবাহন হেডলাইট ব্যবহার করছে। সূর্য ওঠার বিলম্ব জনজীবনকে বিপর্যস্ত করেছে। বিশেষ করে খেটে-খাওয়া দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন তীব্র শীতে চরম কষ্টে পড়েছেন।
ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। চারা রোপণের আগেই শীত ও কুয়াশায় বীজতলার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে।
জেলার বোদা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুন নবী জানান, তীব্র এই শীত ও ঘন কুয়াশায় কৃষকের ফসলের ক্ষতি হয়েছে কিনা এজন্য বিভিন্ন এলাকার বোরো বীজতলা পরির্দশন করেছি। এ পর্যন্ত বোরো বীজতলায় বোরো চারার তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে কোনো কোনো বীজ তলা হলুদ বর্ণ হলেও রোদ উঠলে তা ঠিক হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের বীজতলা কুয়াশার হাত থেকে রক্ষায় বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জীবসাম, পটাশ, জিংক কুইক ও চিলেটেড জিংক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বীজতলায় সকালে রশি টেনে শিশির ঝরানো, রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে রেখে সকালে নিষ্কাশন করে দেওয়া ও গভীর নলকূপ দিয়ে পুনরায় পানি সেচ দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবং বাতাসে আর্দ্রতার ছিল সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। এই জেলার উপর দিয়ে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তাপমাত্রা আরও নিম্নগামী হয়ে জেলাজুড়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
মন্তব্য করুন