
আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৬ জন আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, এই সংঘর্ষে তাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের খাতিয়াল গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
আহতদের মধ্যে খাতিয়াল এলাকার আব্বাস চৌধুরী (৪৭) নামের একজনের অবস্থা গুরুতর। তাকে প্রথমে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাতিয়াল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আবুল জমাদ্দার ও আব্বাস চৌধুরীর মধ্যে জমিজমা ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই বুধবার উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে আব্বাস চৌধুরীকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর আব্বাস চৌধুরীর পক্ষের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ আবুল জমাদ্দারের বাড়িসহ তার স্বজনদের বসতঘরে হামলা চালায়। এ সময় লুটপাটের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এতে আবুল জমাদ্দার, আনোয়ার জমাদ্দার, বেল্লাল জমাদ্দার ও সিরাজ জমাদ্দারের বাড়িসহ মোট ১৩টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। আগুন নেভাতে ও হামলা প্রতিরোধ করতে গেলে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হন।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বেল্লাল জমাদ্দার বলেন, আমাদের জান বাঁচানোই দায় হয়ে পড়েছিল। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। জমাদ্দার বংশের ১৩টি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আমাদের প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবুল ও আব্বাস গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। দুদিন আগেও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার সেই বিরোধ ভয়াবহ আকার ধারণ করে। আনোয়ার-আবুল গ্রুপের ১৩টি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন