
পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির অভিযানে ইয়াবা কারবার চক্রের মূল হোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রয়লব্ধ নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ইয়াবা এনে পাকশীসহ ঈশ্বরদীর বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ডিলারদের মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
পাবনা জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ঈশ্বরদী সার্কেল) ও ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জের তত্ত্বাবধানে পাকশী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে। গত ১২ জানুয়ারি রাত ১০টা ২৫ মিনিটে ঈশ্বরদী থানাধীন পূর্ব টেংরি এলাকার আরজু মার্কেট সংলগ্ন উত্তরা আবাসিক হোটেলের সিঁড়ির সামনে থেকে আজগর (৩৮) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। তিনি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার দেওয়ানকান্দি গ্রামের মোঃ মোফাজ্জল সরকারের ছেলে। অভিযানের সময় তার সহযোগী একজন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। আটক আজগরের দেহ তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রুজু করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজগর জানান, তিনি মোবাইল এক্সেসরিজ ব্যবসার আড়ালে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঈশ্বরদীতে এনে উত্তরা আবাসিক হোটেলে অবস্থান করতেন। সেখান থেকে তিনি স্থানীয় ইয়াবা ডিলারদের কাছে পাইকারি দরে ইয়াবা সরবরাহ করতেন।
পরবর্তীতে আটক আসামির মোবাইল ফোনে ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস মেসেজ, এসএমএস এবং কললিস্ট বিশ্লেষণ করে তার সহযোগী হিসেবে স্থানীয় ইয়াবা ডিলার মোঃ জুয়েল (২৮)-এর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়। জুয়েল পাকশী হঠাৎপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মোঃ কামাল কাজীর ছেলে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৩ জানুয়ারি রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে পাকশী হঠাৎপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে জুয়েলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামিকে নিয়মিত মাদক মামলায় আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হচ্ছে। এছাড়াও এই মাদকচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন