
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় কাঁঠাল পাতা বিক্রি করেই স্বচ্ছল জীবনযাপন করছেন পৌর শহরের সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ছকমল হোসেন (৫৫)। ফসলি জমিতে চাষাবাদ বেড়ে যাওয়ায় গবাদিপশুর চারণভূমি কমে গেছে। এর ফলে মাঠে ঘাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যা ছাগল পালনকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সংকটের মধ্যেই বিকল্প পশুখাদ্য হিসেবে কাঁঠাল পাতার চাহিদা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রায় আট বছর ধরে ছকমল হোসেন কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি দুইজন সহযোগী নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কাঁঠাল গাছের পাতা সংগ্রহ করেন। পরে ভ্যানযোগে সেগুলো পৌর শহরের বাজারে বিক্রি করা হয়।
প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুটি ভ্যান কাঁঠাল পাতা বিক্রি করে তাঁদের আয় হয় প্রায় এক হাজার থেকে ১২০০ টাকা। সে হিসাবে মাসে আয় দাঁড়ায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এই আয় দিয়েই ছকমল হোসেনের পরিবারে এসেছে স্বচ্ছলতা।
স্থানীয় ক্রেতারা জানান, ফাঁকা মাঠ না থাকায় সারা বছরই ঘাসের অভাব থাকে। তাই ছাগলের বিকল্প খাদ্য হিসেবে ভুষির সঙ্গে কাঁঠাল পাতা ব্যবহার করছেন তাঁরা। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন নিয়মিত ক্রেতা কাঁঠাল পাতা কিনছেন।
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, কাঁঠাল পাতা ছাগলের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর ও উপকারী খাদ্য। তবে সুষম খাদ্যের জন্য কাঁঠাল পাতার পাশাপাশি ঘাস ও দানাদার খাবারও প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন