
আওয়ামী লীগ সরকার গত প্রায় ১৫–১৬ বছর ধরে দেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অভিযোগ করেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে প্রবর্তিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে শেখ হাসিনা দেশে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পহরচাদা ইউনিয়নে বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করে আসছে। জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার হরণ করে তারা একদলীয় এবং এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নয় বছরব্যাপী সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু করেন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটি বাতিল করে দেয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও আলেম সমাজের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে আলেম সমাজের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। রাতের আঁধারে নিরীহ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হত্যা করা হয়েছে এবং বহু আলেমকে অন্যায়ভাবে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো—আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? জনগণ একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চায়। তারা এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে আইনের শাসন থাকবে, সুবিচার নিশ্চিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
মন্তব্য করুন