
যে বয়সে স্বস্তি আর নিরাপত্তার সঙ্গে জীবন কাটানোর কথা, সেই বয়সে প্রতিদিন দু’মুঠো ভাতের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে অসহায় বিধবা আজিমন নেছাকে। বয়স প্রায় ৫৮ বছর। তিনি রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের বামনকাঠি হাওলাদার বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।
মৃত মোতাহার হাওলাদারের স্ত্রী আজিমন নেছার নেই মাথা গোঁজার মতো কোনো নিরাপদ আশ্রয়। কয়েকটি পুরোনো টিন ও ভাঙাচোরা সামগ্রী দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী ও ঝুঁকিপূর্ণ খুপরি ঘরেই তার বসবাস। ঘরের ফাঁকফোকর দিয়ে আকাশ দেখা যায়। বৃষ্টির দিনে শরীর বাঁচাতে পলিথিনে জড়াতে হয়, আর শীত মৌসুমে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চরম কষ্ট পোহাতে হয়।
জীবিকার তাগিদে কখনো মানুষের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ, কখনো সুপারি গাছের খোল বা লাকড়ি সংগ্রহ, আবার কখনো ধানক্ষেতে ইঁদুরের গর্ত থেকে পড়ে থাকা ধান কুড়িয়ে বিক্রি করে কোনোভাবে দিন পার করেন তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পাশে নেই কোনো আপনজন কিংবা নিয়মিত সহায়তা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা কিংবা একটি স্থায়ী ঘরের দেখা পাননি আজিমন নেছা।
সম্প্রতি তার করুণ অবস্থার বিষয়টি রাজাপুর উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি রাতে সরাসরি আজিমন নেছার খোঁজখবর নেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র (কম্বল) তার হাতে তুলে দেন।
এ সময় ইউএনও রিফাত আরা মৌরি আজিমন নেছাকে আশ্বস্ত করে বলেন, খুব শিগগিরই তার জন্য একটি স্থায়ী বসতঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তার এই উদ্যোগ যেন হেনরি ডেভিড থোরোর সেই উক্তিকেই বাস্তবে রূপ দিয়েছে— মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, এটি মানবতার সবচেয়ে সুন্দর রূপ।
মন্তব্য করুন