
সুনামগঞ্জে অবৈধভাবে দখলকৃত বসতঘর ও পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ রোববার (০৪ জানুয়ারি) বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য আরপিননগর (অয়ন-২৩) এলাকায় নিজ বাসভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মৃত নজির মিয়া বক্সের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম। এ সময় তাঁর স্ত্রী বিলকিস বেগম ও ছেলে তামিম উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তাঁর পিতা নজির মিয়া বক্স মৃত্যুকালে তিন স্ত্রী, তিন ছেলে ও ছয় কন্যা সন্তান রেখে যান। মৃত্যুর আগে তিনি মোট ১১ শতক জমির মধ্যে শফিকুল ইসলামকে ৪ শতক এবং সৎ ভাই জমিরুল ইসলামকে ৩ শতক জমি প্রদান করেন। বাকি ৪ শতক জমি নজির মিয়া বক্সের নামেই রয়ে যায়।
শফিকুল ইসলামের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাঁর সৎ ভাই জমিরুল ইসলাম প্রতারণার মাধ্যমে ওই অবশিষ্ট ৪ শতক পৈত্রিক জমি নিজের নামে রেকর্ড করে নেন। শুধু তাই নয়, শফিকুল ইসলামের নিজ নামে থাকা ৪ শতক জমির ওপর নির্মিত বসতঘরের প্রায় ১ শতক অংশ জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার ও শালিসি বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাঁর কিংবা পরিবারের কোনো সদস্য কখনোই ‘না-দাবি নামা’তে স্বাক্ষর করেননি বলেও তিনি দাবি করেন।
শফিকুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়াতেও তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তির অবশিষ্ট অংশ থেকে তো আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছেই, উল্টো আমার নিজের ঘরের একটি অংশও জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। আমি এর ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জমিরুল ইসলামের পুত্র আবুল ফাত্তাহ পাপ্পুর স্ত্রী শিউলি চৌধুরীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁরা আইনের আশ্রয় নেবেন।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন