
হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল শায়েস্তানগর এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
মাহদী হাসানকে কী কারণে এবং কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি পুলিশ। এদিকে গ্রেফতারের কারণ জানার দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের (বৈছাআ) স্থানীয় নেতারা হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান নেন।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে গিয়ে থানার ওসির সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন মাহদী হাসান। এ সময় তিনি হুমকিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার একটি ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে একপর্যায়ে মাহদী হাসানকে বলতে শোনা যায়, আমরা জুলাই অভ্যুত্থানের গভর্নমেন্ট এখানে ফর্ম করছি। আমরা আমরাই গভর্নমেন্টকে ফর্ম করেছি। ওই জায়গা থেকে আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক…
পাশ থেকে তাকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও তিনি আরও বলেন, হবিগঞ্জে সবচেয়ে ক্রুশাল আন্দোলন হয়েছে। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। এই বক্তব্য ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ থানা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আনোয়ার আলীর ছেলে এনামুল হাসান নয়নকে ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানের অংশ হিসেবে আটক করা হয়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শুক্রবার সকাল থেকে তা সংগঠিত বিক্ষোভ ও থানা ঘেরাও কর্মসূচিতে রূপ নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
মন্তব্য করুন