মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
পরিবারের দাবি নেপথ্যে স্থানীয় দলীয় কোন্দল

যশোরে সন্ধ্যা রাতে বিএনপি নেতা আলমগীরকে গুলি করে হত্যা

অভিজিৎ ব্যানার্জী
প্রকাশ : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
দুস্কৃতকারীদের গুলিতে নিহত যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর | ফাইল ছবি

শনিবার ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭ টার দিকে যশোর শহরের শংকরপুরে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও প্লট ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি ইসহাক সড়ক এলাকার মৃত ইন্তাজ আলী চৌধুরীর ছেলে। পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক টিম ঘটনাস্থল এলাকায় অভিযান চালানোসহ হাসপাতালে গিয়ে স্বজন ও দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে কথা বলেছেন। হত্যাকান্ড ঘটনায় কে বা কারা সম্পৃক্ত সে ব্যাপারে তথ্য দিতে পারেনি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্লট ব্যবসা বা জমিজমা নিয়ে দ্ব›দ্ব কারো সাথে নেই আলমগীরের। হত্যাকান্ডটি স্থানীয় কোনো দলীয় কোন্দলে ঘটতে পারে।

স্থানীয় ও থানা সূত্র থেকে তথ্য মিলেছে, শংকরপুর ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন শনিবার সন্ধ্যায় সাবেক কাউন্সিলর শংকরপুরের নয়নের অফিস এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় অজ্ঞাতনামা একদল দুষ্কৃতকারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তার মাথার বাম পাশে বিদ্ধ হয় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকরা জানান, সরাসরি মাথায় গুলি লাগার কারণে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আলমগীর যশোরের মেডিকেল কলেজ এলাকায় প্লট ব্যবসা করেন। প্লট ব্যবসা পরিচালনার জন্য তার দুটি অফিসও রয়েছে। তার ব্যবসায় অপর দুই ভাই কামরুল ইসলাস ও আবু মুসা সহযোগিতা করে আসছিলেন। ওই প্লট ব্যবসা ও ওই এলাকায় জমাজমি কেনাবেচায় ওই তিন ভাইয়ের একক আধিপত্যে ঈর্ষান্বিত ছিল স্থানীয় অনেকেই। পাশাপাশি ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন আলমগীর হোসেন। যে কারণে জমির ব্যবসা নিয়ে বিরোধ বা রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে এই হত্যকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন স্থানীয় অনেকেই। এছাড়া সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় একটি দুর্বৃত্ত চক্র এলাকায় ফিরে আধিপত্য নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে আলমগীর হোসেনের সাথে এমন কথাও বলছেন কেউ কেউ।

তবে পুলিশের পক্ষে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি ফারুক আহম্মেদ জানিয়েছেন, কারা এবং কী কারণে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এলাকায় টহল বাড়ানোসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। হত্যাকান্ড ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষে আলমগীরের বড় ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানিয়েছেন, তিনি এলাকায় থাকেন না, শহরের ভেতরে বাস করেন। তার জানামতে প্লট ব্যবসা নিয়ে কারো সাথে আলমগীরের দ্বন্দ্ব ছিলো না। তবে তার ছোট ভাই মুসা তাকে জানিয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক একটি কোন্দল হয়েছিল আলমগীরের সাথে। যে কারণে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্ব›েদ্ব আলমগীরকে হত্যা করা হতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন। এ ব্যাপারে তিনি সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করেন। এদিকে, দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত আলমগীরকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি হাসপাতালে আলমগীরের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলেও পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। একই কায়দায় বর্তমান সরকারের আমলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে এ ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বর্তমান সরকারের আমলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা নিন্দনীয় ও গণতন্ত্রবিরোধী। এ ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের জোর দাবি জানান।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ বিএপির অনেক নেতাকর্মী হাসপাতালে ছুটে যান এবং এই হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানান। জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যশোরের সভাপতি নিজাম উদ্দিন অমিতসহ আরো অনেকে হাসপাতালে যান এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের কঠিন শাস্তি দাবি করেন। এদিকে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া যশোর জেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনছারুল হক রানা জানিয়েছেন, আলমগীর হোসেন বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। তার হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় কে কারা জড়িত পরিস্কার হওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পুলিশ প্রশাসন দ্রæত হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও আটক করবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

কালীগঞ্জে সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা / হুমকির মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

২০২৬-২৭ বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

দেশের ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

নড়াইলে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, ২ মাসের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে!

X