
বাংলা সাহিত্যের প্রিয় ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
সুকুমার বড়ুয়ার মেয়ে অঞ্জনা বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানান, বাবা গত এক সপ্তাহ চট্টগ্রামের একটি মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি ছিলেন। শুক্রবার তাকে জে কে মেমোরিয়াল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ফুসফুসে পানি জমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সুকুমার বড়ুয়া ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় একটি বেড়ার ঘর ভাড়া করে লেখালেখি শুরু করেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসর নেন।
প্রায় ৬০ বছর ধরে ছড়া রচনায় সক্রিয় থেকে তিনি ‘ছড়ারাজ’, ‘ছড়াশিল্পী’, ‘ছড়াসম্রাট’ প্রভৃতি খ্যাতি অর্জন করেন। তার ছড়ায় ব্যঙ্গাত্মক, হাস্যরসাত্মক, নৈতিক শিক্ষামূলক বিষয়ের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও ফুটে উঠেছে।
সুকুমার বড়ুয়ার উল্লেখযোগ্য ছড়ার বই: ‘পাগলা ঘোড়া’, ‘ভিজে বেড়াল’, ‘চন্দনা রঞ্জনার ছড়া’, ‘এলোপাতাড়ি’, ‘নানা রঙের দিন’, ‘চিচিং ফাঁক’, ‘কিছু না কিছু’, ‘প্রিয় ছড়া শতক’, ‘নদীর খেলা’, ‘ছোটদের হাট’, ‘মজার পড়া ১০০ ছড়া’, ‘যুক্তবর্ণ’, ‘চন্দনার পাঠশালা’, ‘জীবনের ভেতরে বাইরে’—এসব বই তার সাহিত্যসেবার উল্লেখযোগ্য নিদর্শন।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয় সুকুমার বড়ুয়াকে। এছাড়াও তিনি লাভ করেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্মাননা, অবসর সাহিত্য পুরস্কার, আনন ফাউন্ডেশন আজীবন সম্মাননা, চন্দ্রাবতী শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা।
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা ছড়ার জগতে এক অমর স্থান করে রেখে গেছেন। তার অমূল্য সাহিত্য ও ছড়া প্রজন্মের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন