
বিদেশে পালিয়ে থাকা একটি হত্যা মামলার অন্যতম আসামিকে দেশে ফেরার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পিবিআই নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান। এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর গোপালপুর ইউনিয়নের কোটরা মহব্বতপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল লতিফের ছেলে মো. আবদুল আহাদ (৫৫)।
পিবিআই নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার তদন্তে আবদুল আহাদের সম্পৃক্ততার শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানে ডিএমপির বিমানবন্দর থানা পুলিশ পিবিআইকে সহায়তা করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বেগমগঞ্জের মবুল্যাপুর কালভার্ট এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে আবদুল আহাদ ও তার সহযোগীরা ভিকটিম আবদুল লতিফ মিন্টুকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কোটরা মহব্বতপুর এলাকায় নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পুনরায় আঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা ভুক্তভোগীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ওই দিন রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় গ্রাম পুলিশ মো. বেলাল হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান জানান, ঘটনার দুই দিন পর ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর আবদুল আহাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে যান। প্রায় দুই বছর পর তার দেশে ফেরার গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, আদালতে হাজির করার পর আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পিবিআইয়ের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন