
আজ ১ জানুয়ারি পল্লী কবি জসীম উদদীনের ১২৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯০৩ সালের এই দিনে ফরিদপুর শহরতলীর কৈজুরী ইউনিয়নের তাম্বুলখানা গ্রামে তাঁর নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কবি।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে ফরিদপুরের অম্বিকাপুরে কবির পৈত্রিক বাড়িতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জসীম ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে কবিকে স্মরণ করছে।
‘নকশী কাঁথার মাঠ’, ‘সোজন বাদিয়ার ঘাট’, ‘কবর’সহ অসংখ্য কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের স্রষ্টা পল্লী কবি জসীম উদদীন অম্বিকাপুরের পৈত্রিক বাড়ির ডালিম গাছের নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। তবে কবির বাড়িটিকে ঘিরে সরকারিভাবে একাধিক উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও কবি পরিবারের অসহযোগিতার কারণে বাড়িটি এখনো অযত্ন ও অবহেলার মধ্যেই পড়ে আছে। এতে করে কবির ব্যবহৃত অনেক স্মৃতিচিহ্ন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা কবিভক্ত ও দর্শনার্থীরা কবির স্মৃতি সংরক্ষণের অভাবে হতাশা প্রকাশ করছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, জাতীয় এই সাহিত্যিকের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জসীম ফাউন্ডেশনের সভাপতি কামরুল হাসান মোল্লা জানান, পল্লী কবি জসীম উদদীনের স্মৃতি রক্ষায় কবি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গ্রামীণ জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম ও বেদনার কথা ‘ওইখানে তোর দাদির কবর ডালিম গাছের তলে’, ‘তুমি যাবে ভাই যাবে মোর সাথে আমাদের ছোট গাঁয়’ কিংবা ‘বাবু সেলাম বারে বার’—এমন অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প ও নাটকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলে তিনি পেয়েছিলেন ‘পল্লী কবি’ উপাধি।
১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ ঢাকায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মন্তব্য করুন