মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো নিমগাছটি আজ শুধুই স্মৃতি

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৭ পিএম
খালেদা জিয়া না থাকলেও তার রোপণ করা নিমগাছটি স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ফেনীর ফুলগাজীর পৈত্রিক বাড়ির দরজায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে যখন তাঁর পৈত্রিক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়িতে এসেছিলেন, তখন দক্ষিণ শ্রীপুর দিঘির পাড়ে নিজ হাতে একটি নিমগাছ রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যায় গাছটি বড় হলে এর গোড়ায় টাইলস দিয়ে লেখা হয়—“খালেদা জিয়া”। গাছটি এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে দাড়িয়ে আছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর খবরে শোকের মাতমে ভেঙে পড়েছে ফেনীসহ গোটা দেশ।

মঙ্গলবার সকালেই মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়িতে মানুষের ঢল নামে। অনেককে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায়। শোকাহত মানুষজন খালেদা জিয়ার হাতে লাগানো সেই নিমগাছের স্থানের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। তাঁদের বিশ্বাস—বেগম জিয়া না থাকলেও তাঁর স্মৃতি এই বাড়িতে চিরকাল অমলিন থাকবে।

খালেদা জিয়ার পৈত্রিক বাড়িতে আজও ছড়িয়ে আছে তাঁর অসংখ্য স্মৃতিচিহ্ন। ঘরের ভেতরে ব্যবহৃত বসার চেয়ার, বিশ্রামের ছোট খাট, খাবারের টেবিল—সবকিছুতেই যেন লেগে আছে দেশের একজন শক্তিশালী রাজনৈতিক নেত্রীর স্পর্শ।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া বাবার বাড়িতে এসে তাঁর দাদা সালামত আলী মজুমদারের কবর জিয়ারত করেন এবং সেখান থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছিলেন। আজ তাঁর মৃত্যুর খবরে সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে গভীর নিস্তব্ধতা। শোকে মুহ্যমান পরিবারের সদস্যরা।

বেগম জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম হোসেন মজুমদার বলেন, বাড়িতে এলে তিনি বড়দের যেমন সম্মান করতেন, তেমনি ছোটদের ভীষণ আদর করতেন। তাঁকে হারিয়ে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে—যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

নিজ পৈতৃক এলাকায় বেগম খালেদা জিয়া জনসাধারণের কল্যাণে মাদরাসা, মসজিদ, স্কুল ও কলেজসহ একাধিক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে ফুলগাজী উপজেলা ও পুরো ফেনী জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম খালেদা খানম পুতুল। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তাঁর দাদা সালামত আলী এবং নানা জলপাইগুড়ির তোয়াবুর রহমান। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ও মা বেগম তৈয়বা মজুমদার।

পাঁচ বছর বয়সে তিনি দিনাজপুর মিশন স্কুলে ভর্তি হন। পরে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করেন। একই বছর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তিনি খালেদা জিয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন।

খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকেই তাঁর পক্ষে সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংকে টাকা তোলার হিড়িক

গেমসের ট্রায়াল দিতে ঢাকায় জিনাত

ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ২৪ জনের নামে মামলা, আটক ৩

নড়াইলে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি গাছ কর্তনের অভিযোগ

বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ দেবে জাপান

জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, যুবক কারাগারে

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের বেশি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও তারুণ্য ধরে রাখবে কাঁকরোল

মণিরামপুরে ইমামুল হত্যাকাণ্ডে আটক হুসাইনের স্বীকারোক্তি

ঋণের প্রলোভনে টাকা আত্মসাত, মাহমুদাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

পাওনা টাকা চাওয়ায় ভাতিজার মারধরে বৃদ্ধ নিহত

সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা সাধারণ মানুষের

মণিরামপুর পৌরসভার উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

এস আলমের প্রভাবমুক্ত ইসলামী ব্যাংকের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

X