
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় তিনি বগুড়ার গাবতলী বাঘবাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাড়িতে দোয়া ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়া শহর ও আশেপাশের এলাকা শোকাহত; মানুষ তাদের প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করছেন।
বগুড়ার জনগণ খালেদা জিয়াকে 'পুত্রবধূ' হিসেবে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছেন। দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে দেশ, দল এবং মানুষের স্বার্থে অবিচল নেতৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি বিগত দেড় দশক ধরে রাজনৈতিক নিপীড়ন সহ্য করা এই নেত্রীর প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা অতুলনীয়। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও অশ্রুসজল হয়ে তাঁর অবদান স্মরণ করেছেন।
১৯৬০ সালে দিনাজপুরের মেয়ে খালেদা খানম বাগবাড়িতে পুতুল বউ হিসেবে বসবাস শুরু করেন। স্বামী জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন থাকাকালীন তিনি গৃহস্থালীর দায়িত্ব পালন করতেন। স্বাধীনতার সংগ্রাম ও পরে রাষ্ট্রপতি জীবনের কঠিন সময়েও বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখেন।
১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর তিনি বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে দেশ ও দলের দায়িত্বভার নেন। পরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ৮০ ও ৯০-এর দশকে জাতীয় নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন।
১৯৯১ সালে বগুড়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। পরবর্তীতে আরও দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বগুড়ার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভোট দিয়ে সমর্থন করেছেন, এবং তিনি তাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিফলন ছিলেন।
এদিকে, বগুড়া জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, নবাববাড়ি সড়কের কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাহ বলেন, নেতাকর্মীরা উপস্থিত হলে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন