
ঠাকুরগাঁওয়ে শীতের তীব্রতা দুই দিন ধরে জনজীবনকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। সূর্যের আলো পুরোপুরি দেখা না যাওয়ায় ঘন কুয়াশা ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা থেকেই পুরো এলাকা কুয়াশায় ঢাকা থাকে, যার ফলে কয়েক হাত দূরের কিছুই স্পষ্ট দেখা যায় না।
এই অবস্থায় সড়ক ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) ভোরে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১০.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা হাড় কাঁপানো শীতের প্রমাণ দিচ্ছে।
শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবীরা। শীতের কারণে কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। শীত থেকে বাঁচতে আগুন জ্বালানো বা মোটা কাপড় পরে তারা কোনোমতো দিন পার করছেন।
শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. আলমগীর কবীর জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ঠাকুরগাঁওয়ে ভোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি আরও জানান, এই অবস্থায় শীতজনিত ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বোরো বীজতলা, শাকসবজি ও আলু ক্ষেত কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষায় নিয়মিত সেচ, ক্ষেত পরিষ্কার রাখা এবং প্রয়োজনে খড় বা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রোগবালাই দেখা দিলে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন