
যশোরে ফেসবুক হ্যাক করে পরিচিতদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা প্রতারণার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পুলিশের নাম ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে যশোরে সাংবাদিক, মসজিদের ইমাম, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের আবেগকে পুঁজি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী এক মসজিদের ইমাম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নেতা মশিউর রহমানের আইডি হ্যাক করে বিভিন্ন পরিচিতজনের কাছে টাকা দাবি করেছে প্রতারকরা। এছাড়াও এ চক্রের হাত থেকে রেহাই পাননি প্রেসক্লাব যশোরের সদস্য জাহিদ হাসান টুকুন নিজেও।
কেশবপুর পৌর শহরের হাবিবগঞ্জ জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ আল আমিন জানান, গত পহেলা ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কে বা কারা তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। এরপর তার পরিচিতজনদের মেসেঞ্জারে বার্তা দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা দাবি করতে থাকে। এর মধ্যে চারজনের কাছ থেকে এক লাখ ৫ হাজার ১১৯ টাকা হাতিয়ে নেয়। প্রতারক চক্রটি ০১৮৯৮৭০৭৫৭৮ ও ০১৮১১-৮০০১৮১ নম্বর ব্যবহার করে। এ ঘটনায় তিনি কেশবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাননি।
সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের যুগ্ম সম্পাদক এম. এ. আর. মশিউর জানান, মঙ্গলবার সকালে তার মোবাইলে একটি কল আসে। ওপাশ থেকে নিজেকে একটি বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া হয়। কলদাতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আপনি একটি গ্রুপ চালাচ্ছেন, সেখানে আপত্তিকর লেখা ও অশ্লীল ভিডিও ছেড়েছেন, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্রুত সেগুলো ডিলিট করুন।’ এ সময় মশিউর বলেন, তেমন কোনো গ্রুপে তিনি যুক্ত নন। থাকলেও তা তার অজান্তে হতে পারে। ওপাশ থেকে বলা হয়, তার শিশুসন্তান মোবাইল ফোন ধরলে এমনটি হতে পারে। এরপর দ্রুত সমস্যা সমাধানের কথা বলে কিছু সময়ের জন্য মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে বলা হয়। সরল বিশ্বাসে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করেন। এরপরই তার পরিচিতজনদের কাছে টাকা চাইতে শুরু করে প্রতারক চক্রটি। কিছু সময় পর ফোন চালু করতেই একের পর এক কল আসতে থাকে। পরে বিষয়টি তিনি বুঝতে পারেন। তার পরিচিতজনদের কাছে নগদের ০১৮৯৮৬৭২২২৫ নম্বর দিয়ে টাকা চাওয়া হয়।
সাংবাদিক মোস্তফা হাসমি সাজু বলেন, গত ২০ অক্টোবর রাতে তার কাছে ০১৭০৮০৩১৫৮৭ নম্বর থেকে পুলিশের ওসি পরিচয়ে কল আসে। বলা হয়, তিনি তাদের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে কল করে হুমকি দিয়েছেন। সাজু জানান, তিনি কাউকে কল করেননি। শুধু তাই নয়, ওই নম্বরে ট্রুকলারে সার্চ দিলে উত্তরা থানার ওসি জাহিদ হাসানের নাম দেখায়। ওপাশ থেকে বলা হয়, এক ঘণ্টা মোবাইল বন্ধ রাখতে। তিনি ফোন বন্ধ করার পর একইভাবে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে পরিচিতজনদের কাছে টাকা দাবি করা হয়। তার বিকাশ থেকে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সাজু। এ বিষয়ে পুলিশের মিডিয়া সেল গ্রুপে জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি।
এ বিষয়ে আরেক ভুক্তভোগী প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, প্রথমে একজন কল করে নিজেকে পুলিশের এসপি পরিচয় দেন। এরপর বিভিন্ন কথা বলেন। কিছু সময় পরই তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়, কিন্তু তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেননি। এর মধ্যে তার বিভিন্ন পরিচিতজনের কাছে মেসেঞ্জারে টাকা দাবি করা হয়। পরিচিতজনদের কাছ থেকে ০১৮৬৪২৩০১২৬ নম্বর নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, পরিচিতজনদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, মূলত হ্যাক হওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের সরাসরি কিছু করার থাকে না। তবে যেসব নম্বর দিয়ে কল করা হয়েছে এবং যেসব নম্বরের মাধ্যমে বিকাশে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেসব নম্বর পাওয়া গেলে ট্র্যাকিং করা সম্ভব। নম্বরগুলো পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মন্তব্য করুন