
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে শীতের প্রকোপ। কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন। মৌসুমের শেষ প্রান্তে এসে শীত যেন নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় ঘোড়াঘাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোর থেকে ঝিরঝির করে ঝরছে শিশির, নিম্নচাপের মতো ঘন কুয়াশা নেমে এসেছে এলাকায়। সড়ক ও পথঘাট ঢেকে যাওয়ায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
তীব্র শীতের কারণে অনেক শ্রমজীবী মানুষ কাজে যেতে পারছেন না। এতে আয় বন্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, অটোরিকশা চালক ও নিম্নআয়ের মানুষ।
অটোরিকশা চালক জাইদুল ইসলাম ও শাকিল বলেন, প্রচণ্ড শীতে সকালে রিকশা নিয়ে বের হওয়া যায় না। আগে দিনে ৮০০–৯০০ টাকা আয় হতো, এখন ৩০০–৪০০ টাকাও হয় না।
ঘোড়াঘাট উপজেলার রামপুরা গ্রামের কৃষক সৈয়কত জানান, বোরো ধানের বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এভাবে শীত ও কুয়াশা চলতে থাকলে চারা পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সর্দি, কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়া সহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শুধু মানুষ নয়, এই তীব্র শীতে কষ্ট পাচ্ছে গৃহপালিত পশুপাখিও।
উপজেলার ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্নআয়ের মানুষের ভিড় দেখা গেলেও দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র এখনো অনেক এলাকায় পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
মন্তব্য করুন