
ঠাকুরগাঁওয়ে টানা ৪–৫ দিন ধরে ঘন কুয়াশা এবং তীব্র হিমেল বাতাসের প্রভাব দেখা দিয়েছে। জেলার একাধিক এলাকায় সন্ধ্যার আগেই কুয়াশা নেমে আসে, এবং সকাল পর্যন্ত সূর্য দেখা না যাওয়ায় সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ভোরে ঠাকুরগাঁওয়ের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩–২৫ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।
ঘন কুয়াশার কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সূর্য আংশিকভাবে দেখা গেলেও শীতের তীব্রতা কমছে না। হিমেল বাতাসে সারাদিনই শীত অনুভূত হচ্ছে।
এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়দের। শীত থেকে বাঁচতে মানুষ ভিড় করছেন শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে, যেখানে সোয়েটার, জ্যাকেট ও কম্বলের বিক্রি বেড়েছে।
ঘন কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সড়ক ও মহাসড়কে। কম দৃশ্যমানতার কারণে যান চলাচল ধীরগতিতে হচ্ছে। চালকরা দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন।
সচেতন মহল প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আলমগীর কবীর জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের আগাম সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে শীতজনিত কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
মন্তব্য করুন