
হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা সংখ্যার হিসাবে অনেক বেশি মনে হলেও বাস্তবে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। এর আগে সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা ৯–১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করলেও শীত এতটা কষ্টের ছিল না, জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সকালের দিকে ঘন কুয়াশা পুরো এলাকা ঢেকে রাখছে। সূর্যের আলো আসতে দেরি হচ্ছে, ফলে কাঙ্ক্ষিত তাপও পাওয়া যাচ্ছে না। উত্তরের ঠাণ্ডা বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়াচ্ছে। বিকেলের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও শীতের প্রভাব পুরো দিনটাতেই দেখা যাচ্ছে।
শীতের তীব্রতা বাড়ায় অসহায় দরিদ্র মানুষদের কষ্টও বেড়েছে। শীতবস্ত্রের অভাবে অনেকেই কনকনে ঠাণ্ডায় রাত পার করছেন। বিশেষ করে নদীর বালু-পাথর শ্রমিক, কৃষিশ্রমিক, ভ্যানচালক ও ভোরে কাজে বের হওয়া দিনমজুররা ঠাণ্ডার সঙ্গে লড়াই করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।
অনেকে রাস্তার পাশে বা হাট-বাজার এলাকায় খড়, কাঠ বা পরিত্যক্ত জিনিস জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই শীতে প্রায় ১৬ হাজার শীতবস্ত্র জেলার পাঁচ উপজেলার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
ভোরে কাজে বের হওয়া মর্জিনা বেগম বলেন, গত দুই দিন ধরে দিনের কোনো তাপ নেই। সকাল ১০–১১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে, কঠিন ঠাণ্ডা। সকালে কাজে গেলে হাত-পা অবস হয়ে আসে।
ধনিপাড়া এলাকার নগেন চন্দ্র রায় জানান, এত মোটা মোটা জামা-কাপড় পড়লেও শীত কাটে না। ছেলে-মেয়ে নাতি-নাতনির সঙ্গে আগুন পোহাচ্ছি।
ট্রাকচালক মজিবর রহমান জানান, সকালে কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। গতি কমিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। সেই সঙ্গে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতেও পারে।
মন্তব্য করুন