
আজ ২১ ডিসেম্বর, নাটোর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাঁচদিন পর, অবরুদ্ধ নাটোরে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। উত্তরা গণভবনে সেই সময় পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিজয়ের আনন্দ।
ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইটে অসংখ্য বাঙ্গালী নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান সেনাবাহিনী সমগ্র দেশে ছড়িয়ে পড়ে। যোগাযোগের সুবিধার কারণে তারা নাটোরে তাদের দ্বিতীয় হেডকোয়ার্টার স্থাপন করে। উত্তরের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যুদ্ধ পরিচালনা হতো এখান থেকে। শহরের ফুলবাগানে অবস্থিত সিও অফিসে স্থাপিত হয়েছিল প্রধান কার্যালয়।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তখন তৎকালীন গভর্নর হাউস (বর্তমান উত্তরা গণভবন), রাণী ভবানী রাজবাড়ী, আনসার ক্যাম্প, পিটিআই এবং নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা কলেজে অবস্থান করেছিল।
২১ ডিসেম্বর, গভর্নর হাউসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নওয়াব আহমেদ আশরাফ আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময় উপস্থিত ছিলেন ১৪১ জন অফিসার, ১১৮ জন জেসিও, ৫,৪৫০ জন সিপাহী এবং ১,৮৫৬ জন প্যারামিলিশিয়া সদস্য। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ কমান্ডের পক্ষে স্বাক্ষর করেন মিত্র বাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রঘুবীর সিং পান্নু।
অন্যান্য উপস্থিত ছিলেন মিত্র বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল লসমন সিং এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল নজর শাহ্। আত্মসমর্পণের সময় ১০,৭৭৩টি অস্ত্রসহ ট্যাংক, মর্টার এবং সাঁজোয়া যান জমা হয়।
নাটোরে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদিন শহর জুড়ে চলে বিজয় মিছিল এবং মুক্ত আকাশে গানের ফায়ার। আজও প্রতি বছর ২১ ডিসেম্বর শহর ও দেশের মানুষ এই দিনটি উদযাপন করে, স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের সেই ঐতিহাসিক বিজয়।
মন্তব্য করুন