
জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজায় লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ সেখানে এসে ভিড় তৈরি করেন।
বেলা সাড়ে ১১টার আগেই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ যেন মানুষের সাগরে পরিণত হয়। উপস্থিত জনতা ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এবং ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’—এর মতো সংকল্পবদ্ধ স্লোগানে স্থানটি প্রকম্পিত করেন। চোখে জল আর মুখে শোক থাকলেও বিচার দাবিতে সবাই এককণ্ঠে সোচ্চার ছিলেন।
শহীদ হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সকল প্রবেশ পথে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ টহলে রয়েছে সেনাবাহিনী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থকেরা একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জানাজার মাঠে নিয়ে আসেন। দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি সংলগ্ন এলাকায় সমাহিত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বাদ জোহর জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়। এর আগে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হাদির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে শহীদ হাদি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ দেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি তৈরি হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহস ও ত্যাগের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ হিসেবে দৃশ্যমান হয়েছে। বিকেলে কবি নজরুলের সমাধি সংলগ্ন এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
মন্তব্য করুন