
ঝালকাঠির রাজাপুরে স্বামীর পরকীয়া সন্দেহকে কেন্দ্র করে রেহেনা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বামী আরিফ খলিফা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনে শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয়রা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকা কেরানীগঞ্জের ভাড়া বাসা থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে রেহেনার মরদেহ বাবার বাড়ি সাংগর গ্রামে এনে রেখে দ্রুত সটকে পড়েন স্বামী আরিফ। ঘটনার রহস্যজনক আচরণ এলাকায় আরও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের সাংগর গ্রামের শহিদ হাওলাদারের মেয়ে রেহেনার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় আরিফ খলিফার। তাদের চার বছর বয়সী একমাত্র কন্যা নাবিলা ইসলাম জান্নাত রয়েছে। ঢাকায় নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করা আরিফ স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কেরানীগঞ্জের ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরিবারের দাবি—স্বামীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে রেহেনা নিয়মিতভাবে নির্যাতনের শিকার হতেন। কয়েকদিন আগে রেহেনার মা মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসতে গেলে রেহেনা জানান, ‘সংসার ভেঙে যাবে’—এই আশঙ্কায় তিনি যেতে চান না।
রেহেনার মামা শাহিন আকন জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফোনে জানানো হয় রেহেনা অসুস্থ। বাসায় গিয়ে তিনি রেহেনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বললেও পুনরায় বাসায় ডাকেন আরিফ। এসব আচরণ সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
শুক্রবার ভোরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্যরা রেহেনার গলা, হাত ও পিঠে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন দেখতে পান। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে আরিফ ও তার সঙ্গে থাকা আত্মীয়রা দ্রুত পালিয়ে যান।
নিহতের বাবা শহিদ হাওলাদার ও ভাই সাব্বির বলেন, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার জেরে রেহেনাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। পরে অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
রাজাপুর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা হয়নি। রহস্যজনক এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
মন্তব্য করুন