সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
দিনাজপুরে অন্ধ আব্দুল মাবুদের সংগ্রাম:

সন্তানদের অবহেলায়ও নিজের পরিশ্রমে ঘুরে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণার গল্প

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৪ পিএম
দিনাজপুরে অন্ধ আব্দুল মাবুদের সংগ্রাম ¦ ছবি: প্রতিনিধি

মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় শক্তি মনোবল—যা শারীরিক অক্ষমতাকেও হার মানায়। এরই জীবন্ত উদাহরণ দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি পৌরসভার ছোট ডাঙ্গাপাড়ার ৬৫ বছর বয়সী অন্ধ আব্দুল মাবুদ। জন্ম থেকেই কম দেখতেন, এখন পুরোপুরি দৃষ্টি হারালেও থেমে যাননি জীবনের পথে। নিজের কাজে নিজের উপার্জনে আজও দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।

স্ত্রীকে নিয়ে ছোট সংসারে কষ্টের মধ্য দিয়েই সন্তানদের মানুষ করেছেন মাবুদ। না খেয়ে থেকেও তাদের লেখাপড়া করিয়েছেন, বিয়ে-শাদি পর্যন্ত সব দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়—আজ সেই সন্তানরাই বাবা-মায়ের খোঁজ রাখেন না। নেই দায়িত্ববোধ, নেই সম্মান, নেই সামান্য যত্নও। ফলে বৃদ্ধ দম্পতিকে প্রতিদিন রাস্তায় ঘুরতে হয় নিজের জীবিকার জন্য।

প্রতিদিন সকালে কাঁধে বস্তা ঝুলিয়ে বাদাম, বুট, কটকটি ও মিঠাই নিয়ে বের হন তিনি। হিলি পৌর শহরের মাঠপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, চারমাথা, মহিলা কলেজ, চুড়িপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভাঙারির বিনিময়ে এসব খাবার বিক্রি করেন। মানুষের দয়ার ওপর নয়—নিজের পরিশ্রমেই সংসার চালান মাবুদ।

চোখে না দেখলেও মনের চোখে পথ চিনতে পারেন। কোথাও ভুল হলে আশপাশের মানুষকে জিজ্ঞেস করেন, মানুষও তাকে সাহায্য করে। প্রায়ই তাকে দেখা যায় হাকিমপুর থানা মসজিদে নামাজ পড়তে। নামাজ শেষে বারান্দায় কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেন তিনি। এখানেই তাকে চিনেছেন এলাকার বেশ কিছু মানবিক পুলিশ সদস্য, যারা প্রয়োজন হলে পাশে দাঁড়ান।

এলাকার সাউফুল ইসলাম, রাসেদুল ইসলাম, এনামুলসহ একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রায়ই দেখি বৃদ্ধ দম্পতিকে বস্তা নিয়ে কষ্ট করে হাঁটতে। ছেলেমেয়ে থাকা সত্ত্বেও তাদের এমন কষ্ট করতে হয় কেন? তবুও তারা কখনো কারও কাছে হাত পাতেন না।

মাবুদের স্ত্রী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মানুষ করি কতো আশা নিয়ে। নিজেরা না খাইয়া তাদের খাইয়েছি। আজ তারা আমাদের চেনে না।

অন্ধ আব্দুল মাবুদ বলেন, ছেলেটারে মানুষ করতে নিজেরা না খাইয়া তারে খাইয়াছি। লেখাপড়া করাইছি, বিয়া দিছি। এখন সে খোঁজও নেয় না। কিন্তু বাঁচতে তো হইবো। তাই চোখে দেখি না তয় ফেরি করি। গেটুকু কামাই হয় তাই দিয়া চলে।

হাকিমপুর (হিলি) থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হক জানান, প্রায়ই দেখি তিনি মসজিদে নামাজ পড়েন। তার জীবনের গল্প শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। অর্থের অভাবের চেয়েও বড় অভাব—সম্মান, ভালোবাসা ও যত্নের অভাব।

তিনি আরও বলেন, সমাজের সবার উচিত এমন মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

সচ্ছল সন্তান থাকা সত্ত্বেও অসহায় বাবা-মাকে প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হয়—এ শুধু ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, পুরো সমাজের লজ্জা। আমাদের সমাজে যতদিন দায়িত্বহীনতা, অবহেলা ও মানবিকতার অভাব থাকবে, ততদিন অন্ধ আব্দুল মাবুদের মতো মানুষদের অন্ধকারেই পথ খুঁজে ফিরতে হবে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

যশোরে প্রজাপতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ 

মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরছিলেন বাবা

X