সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু

হাফিজুর রহমান পান্না, রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২০ পিএম
চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ¦ ছবি: হাফিজুর রহমান পান্না

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় মারাত্মক অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—জরুরি মুহূর্তে অক্সিজেন না পাওয়ায় মোছা. এলেমা নামে এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগীর স্বজনরা।

নিহত এলেমা মহানগরীর জিন্নাহনগর এলাকার বাসিন্দা মো. আলেমের স্ত্রী।

নিহতর স্বামী মো: আলেম বলেন, আমরা বিকেল ৪টার পর হাসপাতালে আসি। আমি একা মানুষ, জাস্ট শুধু আমি হেল্প চেয়েছি, আমাকে হেল্পটাও করছে না তারা। অক্সিজেন না পাওয়ার কারণে সে মারা গেল। নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না। আমি বলছিলাম, আমার রোগীর যা হবে হবে, অক্সিজেনটা দেন ভাই। কিন্তু আমার কথা শুনেনি, তাদেও রোগীর দিকে কিম্বা আমার দিকে কোনো লক্ষ্যই নাই, অন্যদিক নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আমার কথায় কেউ আসেনি।

রোগীর ভাতিজা খায়রুল হাসান রুবেল বলেন, রোগী বার বার অক্সিজেন দিতে বলে, তাহলে আমি ভাল হবো। সে বার বা দাঁতি লেগেছিল, দাঁতি যখন ছুটাই, তখন আবার অক্সিজেন চাচ্ছে। এর আগেও এরকম সম্যাসা হয়েছে, অক্সিজেন দিলে ঠিক হয়।

রুবেল বলেন, ওরা বলছিল স্যারের ওখানে এই লিয়ে আসেন। ওখানে ২০ টাকা দেন, ওখানে ৩০ টাকা দেন, ওখানে ৫০ টাকা দেন। আমরা বলেছি, দুটাকার কাছে ৫ হাজার লেন, হাত ধরছি পা ধরছি শুধু অক্সিজেনটা দেন। তারা অক্সিজেন না দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয় অক্সিজেন ছাড়া। ওয়ার্ড পর্যন্ত যাওয়া অবস্থায় রোগী ধড়ফড় করে মারা গেছে।

রুবেল অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারের অবহেলার কারণে মারা গেছে। আমি কথা বলতে যাই, আনসাররা বলে আমরা যা করি ভালর জন্য করি। আমাদেরকে পুলিশ বাহিনী ডাকতে বাধ্য করেন না। আমরা যদি ফোন দি, তাহলে আপনারা টিকতে পারবেন না। বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেয় আমাদেরকে।

এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয়নি বলে দাবি করে বলেন, সাড়ে ৫টা নাগাদ জরুরি বিভাগে একটা নারী রোগী আসেন। তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি নিশ্চিত করেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভর্তি নেওয়ার পর অক্সিজেন নেওয়ার পর জরুরি বিভাগ ত্যাগ করেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. শংকর রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ঘটনাটা হয়েছে, তা ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগের অন ডিউটি দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন এমএলএসএসকে অতর্কিত ভাবে পেছন থেকে আঘাত করে। তারা হাসপাতালে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিচালক তখন অবহিত হন এবং পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করার প্রস্তুুতি নিচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

যশোরে প্রজাপতি স্কুলের শিক্ষার্থীদের  বৃক্ষ রোপন ও বিতরণ 

মেয়েকে হত্যা করে বস্তাবন্দি লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরছিলেন বাবা

X