মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু

হাফিজুর রহমান পান্না, রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২০ পিএম
চিকিৎসকের দায়িত্বে অবহেলায় রামেক হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু ¦ ছবি: হাফিজুর রহমান পান্না

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় মারাত্মক অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—জরুরি মুহূর্তে অক্সিজেন না পাওয়ায় মোছা. এলেমা নামে এক নারী রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতের এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগীর স্বজনরা।

নিহত এলেমা মহানগরীর জিন্নাহনগর এলাকার বাসিন্দা মো. আলেমের স্ত্রী।

নিহতর স্বামী মো: আলেম বলেন, আমরা বিকেল ৪টার পর হাসপাতালে আসি। আমি একা মানুষ, জাস্ট শুধু আমি হেল্প চেয়েছি, আমাকে হেল্পটাও করছে না তারা। অক্সিজেন না পাওয়ার কারণে সে মারা গেল। নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না। আমি বলছিলাম, আমার রোগীর যা হবে হবে, অক্সিজেনটা দেন ভাই। কিন্তু আমার কথা শুনেনি, তাদেও রোগীর দিকে কিম্বা আমার দিকে কোনো লক্ষ্যই নাই, অন্যদিক নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আমার কথায় কেউ আসেনি।

রোগীর ভাতিজা খায়রুল হাসান রুবেল বলেন, রোগী বার বার অক্সিজেন দিতে বলে, তাহলে আমি ভাল হবো। সে বার বা দাঁতি লেগেছিল, দাঁতি যখন ছুটাই, তখন আবার অক্সিজেন চাচ্ছে। এর আগেও এরকম সম্যাসা হয়েছে, অক্সিজেন দিলে ঠিক হয়।

রুবেল বলেন, ওরা বলছিল স্যারের ওখানে এই লিয়ে আসেন। ওখানে ২০ টাকা দেন, ওখানে ৩০ টাকা দেন, ওখানে ৫০ টাকা দেন। আমরা বলেছি, দুটাকার কাছে ৫ হাজার লেন, হাত ধরছি পা ধরছি শুধু অক্সিজেনটা দেন। তারা অক্সিজেন না দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয় অক্সিজেন ছাড়া। ওয়ার্ড পর্যন্ত যাওয়া অবস্থায় রোগী ধড়ফড় করে মারা গেছে।

রুবেল অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারের অবহেলার কারণে মারা গেছে। আমি কথা বলতে যাই, আনসাররা বলে আমরা যা করি ভালর জন্য করি। আমাদেরকে পুলিশ বাহিনী ডাকতে বাধ্য করেন না। আমরা যদি ফোন দি, তাহলে আপনারা টিকতে পারবেন না। বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেয় আমাদেরকে।

এ ব্যাপারে রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কে বিশ্বাস দায়িত্ব পালনে অবহেলা হয়নি বলে দাবি করে বলেন, সাড়ে ৫টা নাগাদ জরুরি বিভাগে একটা নারী রোগী আসেন। তাৎক্ষণিক ভাবে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক ভর্তি নিশ্চিত করেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ভর্তি নেওয়ার পর অক্সিজেন নেওয়ার পর জরুরি বিভাগ ত্যাগ করেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা অবস্থায় অবনতি হলে সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডা. শংকর রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে যে ঘটনাটা হয়েছে, তা ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। রোগীর স্বজনরা জরুরি বিভাগের অন ডিউটি দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন এমএলএসএসকে অতর্কিত ভাবে পেছন থেকে আঘাত করে। তারা হাসপাতালে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিচালক তখন অবহিত হন এবং পুলিশকে জানানো হয়। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মামলা করার প্রস্তুুতি নিচ্ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

X