
যশোরের ইছালী জুড়ে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আর প্রায় রাতেই চুরি সংঘটিত হচ্ছে এলাকায়। এলাকার সংঘবদ্ধ একটি সন্ত্রাসী চক্রের লোকজন এই চুরি করছে। গত কয়েক মাসে কমপক্ষে দুই ডজনখানেক চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোর চক্রের নেপথ্যে এক সময়ের চরমপন্থি জনযুদ্ধ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত লোকজন রয়েছে। ক্যাডার চক্রটি চাঁদাবাজি করাসহ হামলার ঘটনাও ঘটাচ্ছে। সরকারের পট পরিবর্তনে ওই চক্রের মদদে আজ এ বাজারে, কাল ও বাজারে, এমনকি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করছে। চুরি চাঁদাবাজি ছিনতাইসহ নানা সন্ত্রাসী অপতৎপরতার সাথে জড়িত চক্রকে দ্রুত আটকের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অনেকে। স্থানীয় সূত্র ও এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, ইছালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চুরি হয়েছে। গত ১২ নভেম্বর রাতে হাশিমপুর বাজারের দুই দোকানে চুরি হয়। হাশিমপুর জুলা পাড়ার শফিকুল ইসলামের ফ্লেক্সিলোড ও মোবাইলের দোকানে এবং উত্তরপাড়ার সাগরের ভ্যারাইটি দোকানে চোর চক্র হানা দিয়ে তিন লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। এর আগে রাজাপুর গ্রামের মসজিদের টিউবওয়েল চুরি হয়। এছাড়া গত কয়েক মাসে মটরভ্যান, ব্যাটারি, আলম সাধু, ভ্যান ও ইঞ্জিন চালিত গাড়ি মিলিয়ে কমপক্ষে ৩০ টি চুরি হয়েছে। অপরদিকে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, গরু, ছাগলও চুরি হয়েছে ডজনখানেক। জলকরের বিপ্লবের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দামের আলম সাধু, রামকৃষ্ণপুর গ্রামের লালটুর শেষ সম্বল অটো ভ্যান চুরি হয়। এভাবে আরো কয়েকটি গ্রামে ও বাজারে চুরি হয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত ভুক্তভোগীরা জানতে পারলেও অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, চাঁদা দাবির নতুন রুপ দিয়ে চুরি করছে। ইছালী ইউনিয়ন মথুরাপুর গ্রামের ভ্যানচালক ফুলমিয়ার কাছ থেকে একটি চক্র থেকে ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। টাকা না পেয়ে লেবুতলার জসিমের বাড়িতে হামলা করে কুপিয়ে মহিলাসহ কয়েকজনকে আহত করে একটি চক্র। এমনকি তাদের হাসপাতালে আসতে বাধা দেয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকদের সাহায্য নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন পর বাড়িতে যায় ওই পরিবারটি। এই বাহিনী সবসময় অস্ত্র নিয়েই চলাচল করে। এক সময়ের জনযুদ্ধ ক্যাডার নামে পরিচিত ওই চক্রের সাথে রয়েছে বিভিন্ন গ্রামের উঠতি বয়েসের ছেলে। ওই উঠতিরা একের পর এক চুরি করে যাচ্ছে ইছালী ইউনিয়ন জুড়ে। ওই চক্রটি রাজাপুর গ্রামের তিন টি দোকান ও একটি অটো ভ্যান চুরি করে। ইছালী ইউনিয়নে গত ২২ আগস্ট, ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯ অক্টোবর, দশ আগস্ট অনেকগুলো চুরির ঘটনা ঘটে। জোত রহিমপুরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী মোশররফ ও ট্রাক ডাইভার ফয়সলকে মনোহরপুর বাজারে ফেলে মারপিট করা হয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, ইছালী এলাকায় আবারও এক সময়ের জনযুদ্ধ ক্যাডাররা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ওই চরমপন্থিরা নেপথ্যে হামলা ও মহড়ায় লিপ্ত চিহ্নিতরা। আর তাদের লাগামহীন অপতৎপরতায় সাধারণ মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ছে। ওই চক্রটি একদিকে নেপথ্যে থেকে চুরি করাচ্ছে। অপরদিকে এলাকায় শালিসের নামে জবরদখল, চাঁদাবাজি করছে। রাতে চলছে কোনো না কোন গ্রামে চুরি। বিশেষ করে ইছালী ইউনিয়নের এক সময়ের কয়েকজন জনযুদ্ধ ক্যাডারের নেতৃত্বে চলছে নানা অপকর্ম। ওই চক্রের ভয়ে অনেকে সময় কাটাচ্ছে, অনেক পরিবার আতঙ্কিত। পাশের অপর একটি বাজারেও চলেছে কয়েকটি অনৈতিক কর্মকান্ড। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে কালেকশনের নামে চাঁদাবাজি, প্রতি হাটবারে মাছ মাংস দিতে হবে এমন ঘটনাও ঘটেছে কয়েকজন মাছ ও মাংস ব্যবসায়ীর সাথে। এদিকে শুড়া, ইছালী ঋষীপাড়া, খাজুরা, লেবুতলা, ঘোষপাড়ায় চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে একটি চক্র। তাছাড়া সম্প্রতি অনেকেই ব্যবসা করার শর্তে একটি বাহিনীকে দিতে হচ্ছে চাঁদা। এসব ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানিয়েছেন, অনেকের অভিযোগ তদন্ত হয়েছে। অনেকে আটকও হয়েছে। তবে একেবারে অভিযোগ না করলে সব তথ্য জানা সম্ভব নয়। এরপরও ওই এলাকায় পুলিশ টহল জোরালো করা হবে।
মন্তব্য করুন