
জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে মৌসুমী পূর্বাভাসভিত্তিক জ্ঞান এবং তার প্রায়োগিক ব্যবহার জোরালো করার লক্ষ্যে রিজিওনাল ইন্টেগ্রটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (RIMES)-এর সহায়তায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতি বছর বর্ষাকাল ও শীতকালের শুরুতে মৌসুমী পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে। এই পূর্বাভাস নির্দিষ্ট মৌসুমের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমানের উপর ভিত্তি করে কৃষি সম্পদ, মৎস্য সম্পদ, প্রাণিসম্পদ, পানিসম্পদ, স্বাস্থ্য ও নগর উন্নয়ন খাতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে “ন্যাশনাল ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম” (NCAF) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসাবে ভূমিকা পালন করে থাকে। জাতীয় পর্যায় থেকে এবছর বিভাগীয় পর্যায়ে এই ফোরাম আয়োজন করা হয় যার মূল উদ্দেশ্য হলো: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের আঞ্চলিক পর্যায়ের পূর্বাভাসের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা। ২০২৫ সালের চরম আবহাওয়া ঘটনাবলির থেকে শিক্ষণীয় দিক আলোচনা করা। শীতকালীন পূর্বাভাস উপস্থাপন করা এবং বিভিন্ন অংশীদার খাতের অভিজ্ঞতা ও আপডেট শেয়ার করা।
জাতীয় পর্যায়ের অংশীজনের পরামর্শক্রমে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের উদ্যোগে বুধবার খুলনার সিটি ইন হোটেলে আঞ্চলিক পর্যায়ের “ক্লাইমেট অ্যাপি¬কেশন ফোরাম-২০২৫” (শীতকালীন সেশন) অনুষ্ঠিত হয়। কেয়ার বাংলাদেশের কন্সোর্টিয়াম প্রকল্প “BRIDGES”, বিবিসি মিডিয়া এ্যাকশন-এর “EnRICH” প্রকল্প এবং রাইমস কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের সার্বিক সহযোগিতায় বর্ণিত অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
কর্মশালায়, বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল এই এবং RCAF কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হিসেবে প্রশংসা করেন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাব মোকাবিলায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার জন্য গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে, তবে চরম এবং অপ্রত্যাশিত জলবায়ু ঘটনা দেশটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।
সেশনটির শুরু হয় RIMES এর সিনিয়র মেটিরিওলজিক্যাল অফিসার সৈয়দা সাবরিনা সুলতানা’র স্বাগতিক ভাষণের মাধ্যমে, যিনি ফোরামের উদ্দেশ্যগুলি তুলে ধরেন এবং RCAF-কে জাতীয় জলবায়ু সেবা কাঠামোর (NFCS) মধ্যে একটি সহযোগিতামূলক প্লাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি RIMES এর মিশন তুলে ধরেন, যা হল ডেটা-ভিত্তিক, ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক সিস্টেম গড়ে তোলা, যা জাতীয় প্রস্তুতি এবং জলবায়ু ঝুঁকি প্রতিক্রিয়া শক্তিশালী করতে সহায়ক।
ফোরামের পরবর্তী অংশে, RIMES এর জলবায়ু সেবা বিশেষজ্ঞ আসিফ উদ্দিন বিন নূর টক-ইউ হাইড্রোমেট প্রকল্পের কার্যক্রম সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন। কেয়ার বাংলাদেশের নবপল্বব প্রকল্পের পরিচিতি দেন প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফেরদৌস আলম।BBC মিডিয়া অ্যাকশন নিয়ে একটি উপস্থাপনা করেন প্রজেক্ট ডিরেক্টর ন্দকার হাসানুল বান্না।
এস.এম. কামরুল হাসান, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের পূর্বাভাসের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ করেন। এছাড়া ২০২৫ সালের শীতকালীন মৌসুমের মৌসুমি পূর্বাভাসের আলোচনা করেন। শেষে, RIMESএকটি ফিডব্যাক সেশন আয়োজন করে, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা দৈনিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস বুলেটিনের প্রস্তাবিত সংস্করণ সম্পর্কে তাদের মতামত শেয়ার করেন। এতে নিশ্চিত করা হয় যে পূর্বাভাস পণ্যগুলি সকলের, বিশেষ করে সম্প্রদায় পর্যায়ে, প্রয়োজনীয়তা মেটাচ্ছে। মোহাম্মদ তানজিলুর রহমান, ‘ফার্মারস ফার্ম স্কুল’ (FARRM) এর ফলাফল উপস্থাপন করেন, যেখানে কৃষকদের জলবায়ু তথ্য ব্যবহার করার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি এক বছরের উদ্যোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এছাড়া, ড. এ. কে. এম. রাকিবুল হাসান (RIMES) এনএলএএস (ন্যাশনাল লাইভস্টক অ্যাডভাইজরি সার্ভিস) শীর্ষক প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য আবহাওয়া এবং জলবায়ুর তথ্য ব্যবহার করে প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বিশেষ সিস্টেম পরিচয় করিয়ে দেন, যা আবহাওয়া এবং জলবায়ু ডেটাকে পশুপালন ব্যবস্থাপনায় সংহত করে।
ফোরামটি শেষ হয় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক এস.এম. কামরুল হাসান’র সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে। যেখানে তিনি RCAF-কে সৃষ্টির একটি শক্তিশালী প্লাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আঞ্চলিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য খাতগুলোর মধ্যে পারস্পারিক সংযোগ স্থাপনের আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “ RCAF প্রমাণ করেছে কিভাবে বিজ্ঞান, যোগাযোগ এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা পূর্বাভাসকে কার্যকর করতে সাহায্য করতে পারে।” ফোরামে অংশগ্রহণকারী গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC), বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (DLS), CARE, RIMES, BBC মিডিয়া অ্যাকশন, স্থানীয় মিডিয়া এবং অন্যান্য স্থানীয় এনজিও।
মন্তব্য করুন