
‘ধানের শীষ ছাড়া কখনো ভোট দিইনি। বিএনপির রাজনীতি করায় আমরা সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের নির্যাতন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। তখন জোটের কাউকে পাশে পাইনি। শুনেছি এবার জোটের লোককে ধানের শীষ দেওয়া হবে। বারবার জোটের লোককে ধানের শীষ দেওয়ায় খুবই কষ্ট পাই। আমরা চাই বিএনপির ভেতর থেকেই কাউকে দলীয় নমিনেশন (মনোনয়ন) দেওয়া হোক।’ এভাবেই প্রত্যাশার কথা বলছিলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা বিএনপির সমর্থক মজিদ গোলদার, মশিয়ার রহমান ও আব্দুল কুদ্দুস। তার মতো বিএনপির তৃণমূলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর দাবি-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। এখন পর্যন্ত যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি। গুঞ্জন রয়েছে ওই আসনে বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা রশিদ আহমাদকে প্রার্থী করা হতে পারে। এদিকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠ সরগরম রেখেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নিয়মিত গণসংযোগ করছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু ও চালুয়াহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রয়াত মুছার বড় ছেলে কামরুজ্জামান শাহিন। শ্যামকুড় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির ১৩ নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। অসংখ্য নেতাকর্মী হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্যাতিত নেতাকর্মীরা শান্তি পাবেন। নেহালপুর বিএনপির নেতা খলিলুর রহমান বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আওয়ামী লীগের হামলা, মামলা ও নির্যাতনে রাতে বাড়ি ঘুমাতে পারিনি। যারা আমাদের দুর্দিনে পাশে ছিলেন, সেই নেতাদের মনোনয়ন বঞ্চিত করা ঠিক হবে না। বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান শাহিন বলেন, মানুষ এখন বিএনপির প্রতি আস্থাশীল, বিধায় দলীয় মনোনয়ন বিএনপির প্রার্থীকে দিলে আসনটি উদ্ধার হবে। বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, আগামী নির্বাচনে আমাদের দলের একজন অভিভাবক চাই। দলের ভেতর থেকে যে কাউকে মনোনীত করুক, আমরা তাকে ধানের শীষের প্রতীকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠাব। স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইফতেখার সেলিম অগ্নি বলেন, আমরা এখানে উদার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বসবাস করি। এখানে কট্টরপন্থার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সেক্ষেত্রে বিএনপির কেউ মনোনীত হলে উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দল হিসাবে ভোটাররা ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন। বিএনপি নেতা শহীদ মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন না। আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের অবদান নেই। তাদের মনোনয়ন দিলে দল আসন হারাবে, তখন বিএনপির কিছু করার থাকবে না। সেটা এখন নেতাদের ভেবে দেখা উচিত বলে মনে করি।
মন্তব্য করুন