
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের কশিগাড়ী গ্রামের ৮ বছরের শিশু ইশতিয়াক সরকার জন্মের পাঁচ মাস বয়স থেকেই জটিল কর্নিয়াল রোগে ভুগছে। জন্মের পর থেকেই তার চোখ দিয়ে পানি পড়া, অস্বাভাবিক চোখের চাপ বৃদ্ধি এবং আলোতে তাকাতে সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ চিকিৎসা ও পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান—ইশতিয়াকের বাম চোখ সম্পূর্ণ অকার্যকর, আর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির ৭৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। দিন দিন তার চোখের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে; দ্রুত চিকিৎসা না পেলে চিরতরে অন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইশতিয়াকের উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ফলোআপ, কর্নিয়া চিকিৎসা এবং চোখের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে রাজধানীর ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা পরিবারের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না।
ইশতিয়াকের বাবা আরিফুল ইসলাম শ্যামলী পরিবহনে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করতেন। কিন্তু চাকরি হারানোর পর সংসারের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি দিনমজুরের মতো কাজ করে কোনোরকমে পরিবারের খরচ চালালেও ছেলের ব্যয়বহুল চিকিৎসা এগিয়ে নেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব।
দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার কারণে ইশতিয়াকের পড়াশোনা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্ল্যাকবোর্ড দেখতে না পারায় তাকে রানীগঞ্জ আদর্শ স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে কলনী হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হলেও সেখানেও একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে সে।
আরিফুল ইসলাম বলেন, ছেলেটাকে আবার সুস্থ দেখতে চাই। কিন্তু এখন আমার আর সামর্থ্য নেই। দেশ-বিদেশের মানুষ যদি একটু সহযোগিতা করেন, আমার ছেলে হয়তো আবার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে পারবে।
চিকিৎসকদের মতে, ইশতিয়াকের চিকিৎসা সঠিকভাবে চালিয়ে যেতে লাখ টাকার মতো ব্যয় প্রয়োজন। তাই এখন পরিবারের একমাত্র ভরসা সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা।
ইশতিয়াককে অন্ধ হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। আপনার ছোট সহায়তাই ইশতিয়াকের জীবনে ফিরিয়ে দিতে পারে চোখের আলো।
যোগাযোগ ও সহায়তা প্রেরণের মাধ্যম— বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৭৩৭৮৯৭৭৪২। সোনালী ব্যাংক, রানীগঞ্জ শাখা: ১৮২৫৯০১০১৩৪১৪।
মন্তব্য করুন