
১১ দলীয় জোট রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ৩২টি সংসদীয় আসনে পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, চলমান নির্বাচনের সময় গুরুতর অনিয়মের নানা ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি এবং জাল ভোটের মতো সমস্যা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকা ৪০০টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রমাণ পেয়েছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হামিদুর রহমানের দাবি, দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে অনেক প্রার্থী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি।
ভোটের হার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ১১ দলীয় জোটের এই নেতা। তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে চারটায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।
ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর একজন এজেন্ট মুসলিম হলেও ফলাফল শিটে একজন হিন্দুর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু স্থানে পেন্সিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে কারচুপি করা হয়েছে।
১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ১১ দলীয় জোটের পক্ষে বিভিন্ন দলের নেতৃত্ববৃন্দ সেখানে ছিলেন।
মন্তব্য করুন