
পটুয়াখালীর ৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ এবিএম মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা, তৃণমূলের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং জাতীয় পর্যায়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের কারণে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে তাঁর নাম জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকার ফলেই তিনি ভোটারদের আস্থা পেয়েছেন। কেন্দ্রীয়ভাবে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন বিষয়ক সম্পাদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা ভাষ্য মতে, আন্দোলন-সংগ্রামের সময় রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা, মামলা-গ্রেপ্তার ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা তাঁকে তৃণমূলের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। বিভিন্ন সময়ে তিনি কারাবাস ও হামলা-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন; তবে এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান সরকারি নথি অনুযায়ী যাচাই সাপেক্ষ।
উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান অনেকেই। তাদের প্রত্যাশা পটুয়াখালীর ৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) উন্নয়ন, অবকাঠামো, নদীভাঙন প্রতিরোধ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে নতুন গতি আসবে যদি জেলার এই অভিজ্ঞ রাজনীতিক মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর পটুয়াখালী-৪ আসনে প্রায় ৫৩ হাজার ভোটে বিজয়ী এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রীসভার সদস্য করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে কলাপাড়া নাগরিক সমাজ।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি এ আবেদন করেন কলাপাড়া নাগরিক সমাজের মুখপাত্র মোস্তফা জামান সুজন।
লিখিত বক্তব্যে বলেন, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে পটুয়াখালী-৪ আসনে তিনটি থানা, দুইটি পৌরসভার প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের অন্যতম এবং বরিশাল বিভাগের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। এই আসনে রয়েছে শের-ই-বাংলা নৌঘাটি, পায়রা সমুদ্র বন্দর, ১৩২০ মেগাওয়াট পায়রা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী বিদ্যু প্লান্ট, সাবমেরিন কেবল ল্যান্ডিং স্টেশন, রাডার স্টেশন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, পাট গবেষণা কেন্দ্র, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র, মা ইলিশ প্রজনন কেন্দ্র ও অভয়াশ্রম।
এই জনপদকে পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনকে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে তিনি শতভাগ সফলকাম হবেন এবং এলাকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, বিগত ৫ আগষ্টের পর কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী জনপদের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবিএম মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধভাবে গোটা জনপদের মানুষের বাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো রক্ষায় শতভাগ সফলকাম হয়েছেন।
আগামীতে তিনি মন্ত্রী সভায় স্থান পেলে এ দুর্যোগ কবলিত সাগর উপকূলের এ জনপদ উন্নয়ন সিঁড়িতে উঠতে পারবে বলে আশা করেন। লিখিত বক্তব্যে আরও বলেন, তৃণমূল থেকে ছাত্র রাজনীতির সফল নেতৃত্ব দিয়ে বিএনপির কেন্দ্রী কমিটিতে জায়গা করে নেওয়ায় এবিএম মোশাররফ হোসেনের বিএনপিতে রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। দেশনেত্রী সাবেক প্রধনমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ স্নেহভাজন থাকায় তাঁর কাছে এই জনপদের উন্নয়নের গোড়াপত্তন করার সুযোগকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন।
তাঁর যোগ্যতায় কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের গোড়াপত্তন হয়েছে। হলিডে হোমস নামের ভবনকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। পর্যটন পল্লী গঙ্গামতি পর্যন্ত বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ করেছেন। বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ আস্থাভাজন হওয়ায় এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রী সভায় স্থান করে দিবেন বলে আমরা শতভাগ বিশ্বাস করি। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জনপদকে আলোকিত জনপদে পরিণত করতে তাকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করার জ্বোর দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে কলাপাড়া নাগরিক সমাজ’র সমন্বয়কারী ইয়াকুব খান, সদস্য আব্দুল জলিল, তানজিল জামান জয় উপস্থিত ছিলেন।
তিনি মন্ত্রী হলে জেলার দীর্ঘদিনের সমস্যা দ্রুত সমাধানের সুযোগ হবে। উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান বলেন, মন্ত্রী হলে শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে-এটাই আমাদের আশা। নারী সংগঠক শামসুন্নাহার বেগম মনে করেন, তিনি দায়িত্ব পেলে নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তেরর দিকে। তবে প্রত্যাশার জায়গায় কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীবাসীর বড় একটি অংশ একমত-তাদের প্রিয় নেতা মন্ত্রিত্ব পেলে জেলার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
মন্তব্য করুন