
দীর্ঘ প্রতীক্ষা, জল্পনা-কল্পনা ও নানা সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হলো মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ভোটযুদ্ধ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ ন্যাশনাল ইলেকশন এবং একইসঙ্গে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে এই ইলেকশন।
ভোটগ্রহণের আগে অর্থাৎ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে জনমনে কিছুটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও ভোটের দিনের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশেষ করে মাগুরা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত মহম্মদপুর উপজেলায় বিভিন্ন দলের অংশগ্রহণে ইলেকশন ময়দান ও ভোটকেন্দ্রগুলো ছিল বেশ মুখরিত। এবারের ইলেকশনে সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল ‘নৌকাহীন ব্যালট’। নৌকা প্রতীক না থাকলেও ভোটারদের উপস্থিতিতে সেই প্রভাব খুব একটা পড়েনি। বরং সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল নজরকাড়া। সনাতনী ভোটারদের উপস্থিতিও ছিলো আশানুরুপ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৯২ হাজার ৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৯৭ হাজার ১০১ জন এবং নারী ভোটার ৯৪ হাজার ৯৭৫ জন। উপজেলার ৬৪টি ভোটকেন্দ্রের ৩৬০টি কক্ষে বিরতিহীনভাবে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। শীতের সকাল উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও নতুন ভোটারসহ সব বয়সীরা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। তবে দুপুর দুইটার পর ভোটার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিলো।
মাগুরা-২ আসনের এই ইলেকশনের লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চারজন প্রার্থি। তারা হলেন-ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমীর অধ্যাপক মো: মোশতারশেদ বিল্লাহ্ (এমবি বাকের), হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মুফতি মোস্তফা কামাল এবং লাঙল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির মো: মশিয়ার রহমান। বিএনপি প্রার্থি অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এবং জামায়াত প্রার্থি এমবি বাকেরের সরব উপস্থিতিতে ভোটের মাঠ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমজমাট ছিল।
পুরো মহম্মদপুর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বিকাল চারটা ৫০ মিনিট) কোখাও কোনো ধরণের সংঘাত-সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর যেমন পাওয়া যায়নি। তেমনি ইলেকশনের বিষয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি কোনো প্রার্থিও কোনো ধরণের অভিযোগ তোলেননি।
মন্তব্য করুন