আজ শনিবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২২ জুলাই ২০১৭ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম: মাচার তরমুজের সাথে দুলছে কৃষকের সুখ-স্বপ্ন       মণিরামপুরে আর ‘কেয়ারঅফ’ মুডে নেতা বাছাই চান না তৃণমূল বিএনপি       নাভারণে সহকারী পুলিশ সুপারের অফিস উদ্বোধন        স্ত্রী খুনে অভিযুক্ত দারোগা আজিজুল মুক্ত, ফাঁসি চেয়ে লাশ নিয়ে মিছিল       মহম্মদপুরে সোনালী আঁশের সুদিন       বাগেরহাটে জলাবদ্ধতার কারণ পতিতজমি, খাল-বিল দখল        গার্লস গাইড এসোসিয়েশন যশোরের উদ্যোগে শিক্ষা বোর্ড স্কুলে বৃক্ষরোপন        সন্দেহজনক লেনদেন বেড়েছে ব্যাংকিং খাতে       ডুমুরিয়ায় বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপে ফাইনাল অনুষ্ঠিত        কর্ণেল তাহের স্মরণে যশোরে সভা অনুষ্ঠিত      
দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও এহসান এস কর্তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Saturday, 22 April, 2017 at 12:03 AM
দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও এহসান এস কর্তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেএহসান এস বাংলাদেশের দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনা কতোকটা ‘ধামা চাপা’ পড়ে যাচ্ছে। পাবলিকের এই বিশাল অংকের টাকা হজম করা অভিযুক্ত কর্তারা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। ঘটনার অন্যতম নায়ক কোম্পানির এমডি নামধারী জুনায়েদ আলী, ম্যানেজার নামধারী আতাউল্লাহসহ চক্রের সাঙ্গপাঙ্গরা এখনও গা ঢাকা দিয়ে আছেন।
মামলা-পাল্টা মামলা, সংবাদ সম্মেলন, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে কেটে গেছে দু’বছরেরও বেশি সময়। মধ্যস্বত্তভোগীদের মধ্যে অনেকে নিজেদের অংশ আদায় করতে ব্যস্ত। আর মাঠ পর্যায়ের গ্রাহক ও লগ্নিকারীরা হতাশা আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
২০১২ সালে বিশাল অফিস জনবল নিয়ে কয়েকটি শাখা খুলে যশোরাঞ্চলে পাঁচ সহস্রাধিক গ্রাহক ও লগ্নিকারী তৈরী করে এহসান এস বাংলাদেশ। এরপর ২০১৪ সালের অক্টোবরে ওইসব গ্রাহক লগ্নিকারীদের পথে বসিয়ে তালবাহানা শুরু করে। এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি এবং এহসান ইসলামী রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রতারকেরা প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা পকেটস্থ করে বলে তথ্য মেলে। এ অঞ্চলের মানুষকে মোটা অংকের মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দু’হাজার ৪শ’ কোটি ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও তাদের ব্যাংক একাউন্ট ছিল শূণ্যের কোঠায়। যদিও তাদের ৫ শ’ কোটি টাকার স্থিতি সম্পদ ছিল বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথ্য পায়। সে হিসেবে আত্মসাতের পরিমান দাঁড়ায় দু’হাজার কোটি টাকার মত। ওই সম্পদ বিক্রি করে একে একে টাকা শোধ করে দেয়ার কথা প্রচার করা হয়। এরমধ্যে মধ্যস্বত্তভোগীদের কেউ কেউ গোপন আঁতাত করে কিছু টাকা হাতিয়ে তৃণমূল গ্রাহকদের আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা ওই টাকা আদায় করাসহ এহসান এস-এর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন মানববন্ধনসহ ঢাকা চল কর্মসূচিও পালন করেন। এভাবে কেটে যায় বছর খানেক। থানায় একে একে ডজনখানেক মামলা হয়ে যায়। কয়েক কর্মকর্তা আটকও হন। এরপর শুরু হয় মামলা পাল্টা মামলা, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আত্মসাৎকারী চক্র। এক পর্যায়ে ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি পর্যায়ের পাঁচ জন মোবাইল বন্ধ রেখে টাকা আজ দেব কাল দেব বলে তালবাহানা করে নানা বিপাকে ফেলেন লগ্নিকারীদের।
মূলত এহসান এস বাংলাদেশ, এহসান রিয়েল এস্টেট এবং এহসান মাল্টিপারপাস বছর চারেক যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ে অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করে। শরিয়া মতে ব্যবসা করে মাসে এক লাখে ১৬শ’ টাকা মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা জমা নিতে থাকে। এ কাজে বিভিন্ন এলাকার মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। সংস্থাটি প্রথম ক’মাস লভ্যাংশের টাকা দিলেও পরবর্তীতে না দিয়ে  গ্রাহক ও লগ্নিকারীদের হুমকি ধামকি দেয়া শুরু করলে গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে শরিয়া মতে ব্যবসার কথা বলে এবং ইহকাল পরকালের কথা বলে সাধারণ মানুষকে তাদের ব্যবসায় জড়িত হতে উদ্বুদ্ধ করে। সাধারণ মানুষ সরল বিশ্বাসে তাদের গচ্ছিত টাকা ব্যবসায় লগ্নি করেন। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লভ্যাংশ ও বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দিয়ে শেষমেশ অফিস গুটিয়ে ফেলে। ঢাকায় আত্মগোপনে যান কোম্পানির এমডি নামধারী জুনায়েদ আলী, ম্যানেজার নামধারী আতাউল্লাহসহ চক্রের সাঙ্গপাঙ্গরা।
এ ব্যাপারে যশোরের ওই সময়কার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফয়েজ আহমেদ মাঠে নামেন। এহসান এস-এর কয়েকটি অফিসে অভিযান চালালেও সেগুলোতে তালা বন্ধ পান। আর পথে পথে ঘুরতে থাকেন দু’হাজার কোটি টাকা খোয়ানো এ অঞ্চলের মানুষ। তারা এখনও পথে পথে ঘুরছেন। মামলা গুলোও চলছে ধীরগতিতে। আবার মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত  পাওনাদারদের বিরুদ্ধেও কয়েকটি মামলা দেয়া হয়েছে। তাই এখনও অমিমাংসিত রয়েছে ওই দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনা।
এ ব্যাপারে যশোরের সমবায় অফিসার দ্বীপক কুমার রায় জানিয়েছেন, ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন যশোরে হয়নি। কাজেই ওই ব্যাপারে তাদের কোনকিছু করার এখতিয়ার নেই। 




« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft