মঙ্গলবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৮ মাঘ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
বাড়িটি বুঝিয়ে দিতে ডিসি ও গণপূর্তে আবেদন
সেই ১০ শতক জমি ও বাড়ির প্রকৃত মালিক দাবিদার এক বৃদ্ধ
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:০৭ এএম |
যশোরের মুজিব সড়কের সেই আলোচিত ১০ শতক জমি ও বাড়িটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি ও প্রকৃত মালিক দাবি করে জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগ যশোরে আবেদন করেছেন ইব্রাহিম হোসেন নামে হুশতলা বকচরের এক বৃদ্ধ। এপি তালিকা থেকে অবমুক্ত, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের সরকারি বরাদ্ধ ভ্যাকেট এবং বাড়ি জমি বুঝিয়ে দেয়ার কাগজপত্র উপস্থাপন করে এই আবেদন করা হয়েছে।
ওই বৃদ্ধ বিরোধীয় এপি (বাড়ি)/৭৫ (বি)/ ৭৩ নাম্বার বাড়িটি তাকে দখল বুঝিয়ে দেয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তবে এই আবেদনের আগে যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক সরকারিভাবে ওই ১০ শতকের উপরে বাড়ি জমি বরাদ্দ পান দাবি করে একাংশ বেদখল হয়ে যওয়ার অভিযোগ তোলেন। সেই দাবিতে আইনী লড়াই লড়ে যাচ্ছেন পাশের বসির উদ্দিনের পরিবারের সাথে। সব মিলিয়ে একটি ত্রিমুখি দাবির ঘটনা নিয়ে তদন্তে মাঠে নেমেছে গণপূর্ত যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী।
যশোরের বকচর হুঁশতলা চক্ষু হাসপাতাল রোড এলাকায় ভাড়ার বাসায় বসবাসকারী ইব্রাহিম হোসেন নামে এ বৃদ্ধ জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করে তার বাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। আবেদনে বলা হয়েছে, এস এ খতিয়ান নাম্বার ১৯৫৩, মৌজা চাঁচড়া, জে.এল.নং- ৭৭, আর.এস খতিয়ান নাম্বার ৬৫৭, এস.এ দাগ নাম্বার ৪২১ এর ১০ শতক জমির উপর তার বাড়ি ৭৫ (বি)/৭৩ অবস্থিত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর শহরের মুজিব সড়ক রেলগেট, সোনালী ব্যাংকের বিপরীতে তার ওই পৈত্রিক বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করতে থাকেন। তারপর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে তার নিজ নামীয় ভিটায় এসে দেখেন সরকার পক্ষ তার বাড়িসহ সম্পত্তি এপি করে নিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বিজ্ঞ ২য় কোর্ট অব সেটেলমেন্ট আদালতে (মামলা নাম্বার ৮২/৯২) মামলা করেন। মামলায় সরকার পক্ষ ও তার মধ্যে দো’তরফা শুনানী শেষে ১৯৯৮ সালের ৫ আগস্ট তার জমি বাড়ি এপি তালিকা থেকে অবমুক্ত করা হয়। এছাড়া ইব্রাহিমের অনুকূলে রায়ের আদেশ প্রদান করা হয়। বাড়িটির দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্যও আদেশ প্রদান করেন। ইব্রাহিমের পক্ষে যশোরের সরকারি কৌশুলীও আইনগত মতামত প্রদান করেন। ইব্রাহিমের পক্ষে রায়ের কাগজ এপি থেকে অবমুক্তকরণ কাগজ, তাকে জমি বাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশনা সংক্রান্ত সকল কাগজপত্রমুলে বাড়ি ও জমি দাবি করেছেন ওই বৃদ্ধ।
এ ব্যাপরে বৃদ্ধ ইব্রাহিম জানিয়েছেন, পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন। করছেন মানবেতর জীবনযাপন। তিনি এখন জীবনের শেষ প্রান্তে বলে দাবি করে তার নিজ সম্পত্তিতে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করার সুযোগ চেয়েছেন জেলা প্রশাসকের কাছে। তিনি আরো জানান, ওই জমিতে যারা আছেন তাদের সাথে তার কোনো বিরোধ নেই। তার জমি সরকার নিয়েছে, সরকার কাগজপত্র পরে ফেরতও দিয়েছেন। কিন্তু এখনও দখল উচ্ছেদ করে বুঝিয়ে দেয়নি। তিনি জমি বাড়ি বুঝিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। সেখানে যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও অন্যরা বসবাস করছেন তাদের সরকারি অন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়ারও আহবান জানান তিনি।
এদিকে বর্তমানে ওই বাড়ি ও জমিতে বসবাস করা যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক যশোরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগে জানিয়েছেন তিনি ১৯৭২ সালে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে উপরে উল্লেখিত জমি ঘর বরাদ্দ পান। বরাদ্দ পাওয়া টালির ঘরটি ১৯৮৮ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাকে কিছু টিন দেন। ভেঙ্গে যাওয়া টালির ঘরটির পাশে টিন সেডের ৩টি কক্ষ তৈরি করেন। ওই সময় হঠাৎ তাকে ঢাকায় বদলি করায় পরিবার রেখে তিনি ঢাকায় চলে যান। এরমধ্যে ১৯৯৪ সালে মৃত নাসির উদ্দীনের ছেলে বশির উদ্দীন ও মৃত গাউস বিহারীর ছেলে আব্দুর রশিদ বিহারী টিন সেটের ৩টি কক্ষ দখল করে নেন। তাদের উচ্ছেদের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন আইনী লড়াই লড়ে যাচ্ছেন। আবার বশির উদ্দীনের পরিবারের দাবি, তারা বৈধভাবেই ৪ শতক জমি ও ঘর বরাদ্দ পান। তারা নিয়মিত গণপূর্তে ঘরভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। সব কাগজপত্র হালনাগাদ তাদের আছে। শুধু বরাদ্দপত্রটি তাদের হারিয়ে গেছে।
তবে অনেক কাগজপত্র উপস্থাপন করে ওই ১০ শতক বাড়ির জমি প্রকৃত মালিক বলে দাবি করছেন বৃদ্ধ ইব্রাহিম। আবার বরাদ্দ মূলে ১৯৭২ সাল থেকে বসবাস করছেন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক।  অপর অংশে বাস করছেন মৃত বশির উদ্দিনের পরিবার। তারাও বৈধতা দবি করেছেন। সব মিলিয়ে এখন ত্রিপক্ষীয় একটি জটলা সামনে এসেছে।  
এ ব্যাপারে গণপূর্ত যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্প্রতি ইব্রাহিম হোসেন নামে এক বৃদ্ধ ওই ১০ শতক জমির প্রকৃত মালিক দাবি করে কিছু কাগজপত্র উপস্থাপন করেছেন তার দপ্তরে। সেগুলো পর্যালোচনা করা হ্েচ্ছ পুরোনো নথিপত্র দেখে। এছাড়া বর্তমানে ওই জমি ও ঘর সরকারের গণপূর্ত ও গৃহায়ণ মন্ত্রণালয়ের আওতায়। ওই জমি শুধু বসবাসের জন্য দেয়া হয়েছিল যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালককে। সেটা বেশ পুরোনো। এরপর বশির আহমেদকে কোন কাগজপত্রের আলোকে দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে। আবার ইব্রাহিম হোসেনের নতুন আবেদনটিও সামনে এসেছে। সব বিষয়ে তদন্ত এগুচ্ছে। জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করতে বলেছেন। যে কারণে সবার কাগজপত্রের আলোকে বর্তমান পরিস্থিতির একটি প্রতিবেদন তেরি করা হবে।




গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
সাবেক মেয়র, সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার নামে মামলা
যশোর বোর্ডের একটি স্কুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ
যশোরে এলজিইডির মানববন্ধন
সিরাজসিংহায় বাড়ি ছাড়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে এক পিতৃহারাকে
জাল জখমি সনদে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করে কারাগারে স্ত্রী
ডলার সংকটে রমজানে বাড়তে পারে খেজুরের দাম
পাকিস্তানের পেশোয়ারে মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ২৮
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সভাপতি সুমন, সম্পাদক আরিফ
সাবেক মেয়র, সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার নামে মামলা
বাঙালির কিছু বিখ্যাত বংশ পদবীর ইতিহাস
নর্দমায় ছুড়ে ফেলা স্বর্ণ উদ্ধার করলো পুলিশ, আটক এক
উন্নত বাংলার স্বপ্ন দেখিয়েছেন শেখ হাসিনা: সাবেক এমপি মনির
বেসরকারি হাসপাতালের ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিএনপিকে জনগণ পালাবার সুযোগ দেবে না : তথ্যমন্ত্রী
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft