মঙ্গলবার ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৫ মাঘ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ স্বাস্থ্যকথা
উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ কোলতাকা অ্যাপোলো হাসপাতালের
সরোয়ার হোসেন, কোলকাতা থেকে ফিরে
প্রকাশ: শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৩, ৯:২৩ পিএম আপডেট: ২১.০১.২০২৩ ৯:৩২ পিএম |
সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা সহজীকরণে এগিয়ে যাচ্ছে কোলকাতা অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল। বিশ্বের উন্নত হাসপাতালগুলোতে যে চিকিৎসাসেবা রয়েছে এই হাসপাতালটিতেও একই সেবা পাচ্ছেন রোগীরা। কম কাটাছেড়ায় করা হচ্ছে হার্টের সার্জারি। এতে রোগীরা যেমন কষ্ট কম পাচ্ছেন, তেমনি সুস্থ হয়ে উঠছেন দ্রুত। চালু হতে যাচ্ছে হার্টের রোবটিক সার্জারিও। কিডনি প্রতিস্থাপন, মাথার সমস্যা, নাক-কান-গলা, মাথা ও নাকের ক্যান্সার, লিভার প্রতিস্থাপন, বোনম্যারো প্রতিস্থাপন, নিতম্ব-হাঁটু-কাঁধের জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের মতো জটিল চিকিৎসা সাফল্যের সাথেই করা হচ্ছে হাসপাতালটিতে। রয়েছে মানুষের গলার স্বর পরিবর্তনের মতো চিকিৎসাসেবাও।
এখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষদের জন্য সেবাপ্রাপ্তি সহজ ও সাশ্রয়ী করতে অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল হাতে নিয়েছে নানা উদ্যোগ। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য নেয়া হচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা। যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালু করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার।
১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি কোলকাতায় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা। এ তিনদিন সাংবাদিকেরা হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পরিদর্শন করেন। রোগীদের সাথে কথা বলা ছাড়াও হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, ওয়ার্ড পরিদর্শন করা হয়। দেখা হয় চিকিৎসায় ব্যবহৃত উপকরণ ও সেগুলো উন্নত প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ ও ব্যবহার পদ্ধতিও। তিন দিনে একাধিক মতবিনিময় ছাড়াও হোটেল আইটিসি রয়েল বেঙ্গলে একটি সাংবাদিক সম্মেলনেও অংশ নেন সাংবাদিকেরা। এসব অনুষ্ঠানে খোলামেলা আলোচনা করেন কোলকাতা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রানা দাশগুপ্তা, চিফ অপারেশন অফিসার অভিজিৎ মজুমদার, গ্যাস্ট্রোলিভার বিভাগের কনসালটেন্ট ও বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার সুশান্ত মুখোপাধ্যায়, ইএনটি বিভাগের প্রধান ডাক্তার শান্তনু পাজা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিভাগের কনসালটেন্ট ডাক্তার অর্পণ চক্রবর্তী, বক্ষব্যাধী বিভাগের ডাক্তার দেবরাজ জশ।
ডাক্তার রানা দাশগুপ্তা বলেন, কোলকাতা অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল সব থেকে বেশি ব্যস্ত। এখানে ক্রিটিক্যাল রোগীদের জন্য ২৪০টি বেড রয়েছে। আছে ১৪টি ওটি। কোলকাতার একমাত্র হাসপাতাল হিসেবে এটি জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল (জেসিআই) অনুমোদিত। প্রতিটি বিভাগের ডাক্তার অভিজ্ঞ ও দক্ষ। এখানে চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেয়া হয় যাচাই-বাছাই করে। বয়স্কদের সাথে নবীনদের সমন্বয়ের কারণে চিকিৎসা সেবা যেমন ভালোভাবে দেয়া সম্ভব হয়, তেমনি নবীনরাও দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠেন।
তিনি বলেন, কোলকাতা অ্যাপোলো রোগীদের বেশিদিন হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে রাখার পক্ষে না। রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসক তাকে দেখেন। দ্রুত পরীক্ষা করানো হয়। ফলে চিকিৎসাও শুরু হয় দ্রুত। কোন রোগীকে অযথা আটকে খরচ বেশি করানো হয় না। চিকিৎসকদের মতো অন্যান্য স্টাফও হাসপাতালটিকে নিজেদের মনে করেন। সেজন্য রোগী সেবায় তারা নিজেদেরকে উজাড় করে দেন। কোন আপোষ করা হয় না চিকিৎসা ক্ষেত্রে। কোলকাতা অ্যাপোলোর মূল উদ্দেশ্য নিরাময়ের পাশাপাশি রোগকে প্রতিরোধ করা। সেজন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা খুবই জরুরি।
কর্মকর্তা ও চিকিৎসকেরা জানান, ২০২২ সালে কোলকাতা অ্যাপোলেতে শিশুসহ ৫০জনের বোনম্যারো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। নয় মাসে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে একশ’ কিডনি।
গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগের প্রধান ও কনসালটেন্ট ডাক্তার মহেশ কুমার গোয়েলকার বলেন, ভারত-বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ফ্যাটিলিভার খুব কমন একটা রোগ। ভালো থাকতে গেলে দ্রুত এই রোগ চিহ্নিত হওয়া দরকার। এজন্য কোলকাতা অ্যাপোলোর রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি। যেসব উপকরণ দিয়ে চিকিৎসা করানো হয় সেগুলো ভালোভাবে পরিস্কার করার জন্যও রয়েছে উন্নত আর একটি উপকরণ। এসব উপকরণ রক্ষণাবেক্ষণও করা হয় সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে। এখানে চিকিৎসার পাশাপাশি ফেলোশিপ কোর্স, ক্লিনিক্যাল গবেষণা এবং রিসার্স করা হয়। তিনি জানান, ইকোনোমিক টাইমসের মূল্যায়নে ২০২২ সালে কোলকাতা অ্যাপোলোর গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগ ভারতের শ্রেষ্ঠ গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগের স্বীকৃতি লাভ করেছে।
হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডাক্তার সুশান মুখোপাধ্যায় বলেন, কোলকাতা অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালে প্রায় এক দশক থেকে এমআইসিএস (মিনিম্যালি ইনভেসিভ কার্ডিয়াক সার্জারি) শুরু হয়েছে। সম্প্রতি টেকনিক্যালি এই সার্জারি আরও উন্নত হয়েছে। কিছু উন্নত উপকরণও আনা হয়েছে। এ পর্যন্ত চার হাজারের ওপরে এমআইসিএস সার্জারি করা হয়েছি হাসপাতালটিতে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০টি এমআইসিএস সার্জারি হয় উল্লেখ করে ডাক্তার সুশান মখোপাধ্যায় বলেন, ওপেনহার্ট সার্জারিতে ৯৫ শতাংশ ঝুঁকি থাকলে এমআইসিএস এ ঝুঁকি মাত্র পাঁচ শতাংশ। কারণ ওপেনহার্ট সার্জারিতে আট থেকে দশ ইঞ্চির মতো কাটতে হয়। সেখানে এমআইসিএস এ মাত্র দেড় থেকে তিন ইঞ্চি কাটা লাগে। এটি রোগীর জন্য আরামদায়ক এবং এতে কোন দাগ থাকে না। এই পদ্ধতির মাধ্যমে সার্জারি করা রোগী খুব দ্রুতই বাড়ি ফিরতে পারেন এবং কাজকর্ম করতে পারেন। এমআইসিএস এর মাধ্যমে অস্ত্রপচার করা হয় মিনিম্যালি ইনভেসিভ বাইপাস সার্জারি, এন্ডোস্কোপিক ভেইন এবং রেডিয়াল আর্টারি হার্ভেস্টিং, এমআইসিএস মহাধমনী ভালভ, মিনিম্যালি ইনভেসিভ মাইট্রাল ভালভ সার্জারি, কি-হোল এএসডি ক্লোজার এবং করোনারি বাইপাস।
তিনি জানান, বেশি বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রেও এমআইসিএস পদ্ধতিতে সার্জারি করা তুলনামূলক নিরাপদ। কোলকাতা অ্যাপোলোর সার্জারির সফলতা ভারতের অন্যান্য প্রদেশ থেকে উন্নত ও হার বেশি। সে কারণে সমগ্র ভারত থেকেই এখানে রোগী আসছেন। আসছেন ভিআইপিরাও। তিনি জানান, সাধারণ সার্জারি থেকে এমআইসিএস পদ্ধতির খরচ একটু বেশি লাগে।
ডাক্তার সুশান মুখোপাধ্যায় আরও বলেন, কোলকাতা অ্যাপোলেতে অচিরেই রোবটিক সার্জারি শুরু হবে।
ডাক্তার অর্পণ চক্রবর্তী জানান, যেসব রোগী খুবই খারাপ অবস্থায় চলে যান তাদের জন্য কোলকাতা অ্যাপোলোতে অ্যাডভান্স ক্লিটিক্যাল কেয়ার ব্যবস্থা চালু আছে। সাধারণ ভেন্টিলেশনে যখন কাজ হয় না, তখনই এই ব্যবস্থায় থেরাপি দেয়া হয়। এসময় লাঞ্চ কাজ না করলে অন্যভাবে শারীরে অক্সিজেন সরবরাহ করে রোগীকে বাঁচিয়ে রাখা হয়।
নাক-কান-গলা বিভাগের প্রধান ডাক্তার শান্তনু পাজা বলেন, নাক-কান-গলা বিষয়ক যে চিকিৎসা বিশ্বের উন্নত হাসপাতালগুলোতে হয় তার সবই হয় কোলকাতা অ্যাপোলেতে। যারা জন্মগত বধির তাদের কথা বলানোর চিকিৎসা আছে। রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ভয়েস ক্লিনিক। এখানে সার্জারির মাধ্যমে মানুষের ভয়েসকে পরিবর্তন করানো হয়।
তিনি বলেন, চিকিৎসা একটা সামগ্রিক ব্যাপার। এটার সাথে পরীক্ষা, ব্যবস্থাপত্র, ওষুধ, সেবা যেমন আছে, তেমনি ব্যবস্থাপনাও একটা বড় ব্যাপার। সবগুলো পরিপূর্ণ করতে পারলে পরিষেবা ভালো হয়েছে বলা যায়। কোলকাতা অ্যাপোলো এসবের সামষ্টিক প্যাকেজ নিয়ে রোগী সেবায় নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে চলেছে।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য পৃথক ডেস্কে কাজ করছেন একদল কর্মী। সেখানে অনেক বাংলাদেশি চিকিৎসাসেবা নেয়ার জন্য নাম তালিকাভূক্তি করছেন। অপেক্ষা করছেন অনেকে। এই ডেস্কের কর্মীরা জানান, প্রতিদিন কয়েকশ’ বাংলাদেশি নানা রোগের চিকিৎসা করাতে আসেন। তারা যাতে বিড়ম্বনার শিকার না হন সেজন্যই বিশেষ এই ডেস্ক খোলা হয়েছে। এখানে পাসপোর্ট দেখিয়ে নাম তালিকাভূক্তি করানো হয়। আগে থেকে চিকিৎসকের অ্যাপয়নমেন্ট থাকলে রোগীকে সেখানে পাঠানো হয়। তা না থাকলে তার চাহিদা অনুযায়ী বা রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়।
এদিকে, বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা সেবার সুবিধায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অ্যাপোলো মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল কোলকাতা কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসকদের অ্যাপয়নমেন্টসহ অন্যান্য তথ্য পেতে ও সহযোগিতা পেতে যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চালু করা হয়েছে ইনফরমেশন সেন্টার। সিওক নামে একটি সংস্থা এসব ইনফরমেশন সেন্টার পরিচালনা করছে।
সিওকের সিইও মাছুমুজ্জামান বলেন, এসব সেন্টার থেকে রোগীরা বিনামূল্যে সার্বিক সহযোগিতা পাবেন। একইসাথে সার্জারি রোগী দেশে ফেরার পর এসব সেন্টারের মাধ্যমে টেলিমেডিসিনের সুবিধাও লাভ করতে পারবেন। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনে রোগীদের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেরও ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও জানান, কোলকাতায়ও সিওকের একটি ইনফরমেশন সেন্টার রয়েছে। সেখানে যাওয়ার পরও বাংলাদেশিরা বিনামূল্যে সহযোগিতা লাভ করতে পারবেন। প্রয়োজনে কোলকাতার কর্মীদেরকে সাথে দিয়ে রোগীকে অ্যাপোলোতে পাঠানো হয় বলেও জানান মাছুমুজ্জামান।



গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
অপেক্ষায় যশোর বোর্ডের ১ লাখ পরীক্ষার্থী
মনোমুগ্ধকর আয়োজনে যশোরে পুলিশ সমাবেশ ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা
যশোরে দু’দিনব্যাপী আইটি মেলার সমাপনী
সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের নির্বাচন ২০ মার্চ
বিসিক চেয়ারম্যানের যশোর পরিদর্শন, দিলেন নানা প্রতিশ্রুতি
আগের তুলনায় রাজস্ব অনেক বেড়েছে : কৃষিমন্ত্রী
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
আলোচিত নীলা এবার খুলনা কারাগারে
তুরস্ক-সিরিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫৬০
যশোরে আইটি মেলা ও শীত উৎসবের উদ্বোধন
এলাকা ছাড়ছে সাতক্ষীরা উপকূলের মানুষ
চুড়ামনকাটিতে যুবককে ছুরিকাঘাত
ধ্বংসযজ্ঞের নিচে শুধু লাশের স্তুপ
এশিয়া কাপ পাকিস্তানে, ভারতের ম্যাচ আমিরাতে!
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft