বুধবার ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
                
                
☗ হোম ➤ মতামত
প্রশ্ন গুলো থেকেই যায়... উত্তর মেলে না!
মাহমুদা রিনি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০২২, ৮:৪৫ পিএম |
বার বার লিখি, জানি কিছু হয় না, হবেও না, তবুও লিখি। বিবেক নামক এক অদৃশ্য বস্তু তাড়া করে ফেরে। দু’একদিন পরপরই বাসায় দুমদাম কলিং বেল বাজে, ঘটনা হলো সাত থেকে দশ-বার বছরের দু-তিনটি শিশু, পা পর্যন্ত পাঞ্জাবি পরা, মাথায় টুপি, তারা ভিক্ষা চাচ্ছে। অমুক তমুক মাদ্রাসা থেকে তাদের পাঠিয়েছে। আসেপাশে সেই মাদ্রাসার শিক্ষকও আছেন কিন্তু তাঁকে খুব একটা দেখা যায় না। এরা মাদ্রাসার নামে সাহায্য চায়। এই ব্যবস্থা শুধু এখানেই নয় এই ভিক্ষাবৃত্তির পদ্ধতি চালু আছে সারাদেশে। সভ্য সমাজের কাছে, সরকারের কাছে আমার সবিনয় প্রশ্ন শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানোর এই স্বীকৃত ব্যবস্থার সমর্থন আপনারা কীভাবে করতে পারেন? আমি, আপনি, আপনারা সন্ত্রাসমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাই, আমরা শিক্ষার প্রশার বা শিক্ষিত জাতি চাই, সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই নাকি গালভরা বুলির আড়ালে উন্নয়নের নামে  ইঁটকাঠের দঙ্গল বানিয়ে বিবেকবর্জিত সমাজ চাই বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করে! উন্নত সমাজ, শিক্ষিত জাতি হিসেবে দেশকে সমৃদ্ধ দেখতে চাইলে মানবসম্পদ তৈরিতে অবশ্যই মনোযোগ দেয়া জরুরি। শিশুদের জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি, সুষম খাদ্য ও সুস্থ পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। শিশুরাই আগামী দিনে সমাজ এবং দেশের কর্ণধার। অবহেলিত, মেধাহীন শিশুসমাজ কীভাবে আগামী দিনে দেশের দায়িত্ব নেবে? মেধাহীন শিক্ষা ব্যবস্থায় খাঁচায় পোষা নির্দিষ্ট সংখ্যক শিশু শেখানো বুলি আওড়িয়ে লেখাপড়া শিখে ভবিষ্যতে  দেশের দায়িত্ব পালন করবে- সেই দেশ ও জাতির মেরুদ- কেমন হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বোধহয় তার প্রতিফলন ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শিক্ষার্থীদের অনীহা, বই পড়ায় অমনোযোগ, সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি বা গাইডবইয়ে নির্ভরশীলতা ইত্যাদি সেই দিকই নির্দেশ করে। উন্নয়ন শুধু ইঁটকাঠের অবকাঠামো দিয়ে হয় না, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, মেধার উন্নয়ন, শিক্ষা বা শিক্ষিত জাতি ছাড়া একটি দেশ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না।
ফিরে আসি মূল কথায়, পাড়ায় পাড়ায়, কোনায় কানায় মাদ্রাসা তৈরি হচ্ছে। খুবই ভালো কথা যদি সেখানে লেখাপড়া শেখানো হয়! লেখাপড়া শিখুক, ভালো কাজ শিখুক, আচার-আচরণে ভালো মানুষ হোক কোনো অসুবিধা নেই, সে যে মাদ্রাসায়ই হোক না কেন! কিন্তু ভিক্ষাবৃত্তি শেখানো হবে কোনো প্রতিষ্ঠানে সুস্থ জাতি হিসেবে সেটা কেমন করে চলতে পারে? এই শিশুরা সকাল হলেই কাঁধে একটা বড়ো ব্যাগ নিয়ে বাড়ি বাড়ি বেল টিপে "সাহায্য দেন, চাল-টাকা যা পারেন মাদ্রাসায় সাহায্য করেন" বলে চেঁচাতে থাকে। কোনো শিশুকে দিয়ে এটা একদিনে বা সহজে করানো সম্ভব নয়। ভিক্ষা চাইতে পারা কঠিন কাজ। অবশ্যই প্রাকটিস করতে হয়েছে। বিশ্বাস না হলে আপনার শিশু সন্তানকে পাশের বাসা থেকে এককাপ চাল-ডাল কিছু চেয়ে আনতে বলেন পারে কি-না! পারবে না আমি নিশ্চিত। তাহলে শিক্ষার নামে এই প্রাকটিস তাদেরকে কেন করানো হচ্ছে? এই শিশুদের মেধাকে কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে?  আর একটু বড়ো হয়ে এরা কী কাজ করবে? আমি জেনেছি মাদ্রাসাগুলোর কোনো আর্নিং সোর্স নাই। এটা হতে পারে কিন্তু সেটা অবশ্যই কতৃপক্ষের বিষয়। মাদ্রাসা কমিটি কীভাবে তাদের খরচ বহন করবে সে দায় কোনোমতেই শিশুদের উপর বর্তাতে পারে না। শিশুরা ভিক্ষা করে মাদ্রাসার খরচ বহন করবে এই ভরসায় মাদ্রাসা খুলে বসাকে অপরাধ বলে মনে হয়। এই শিক্ষা ব্যবস্থার চেয়ে ভালো যে তারা কোনো কারিগরি শিক্ষা পাক। ছোটো ছোটো কারিগরি বিদ্যালয় তৈরি হতে পারে যেখানে শিশুরা হাতে কলমে কাজ শিখবে। হতে পারে যে কোনো কুটির শিল্প বা মেকানিকের কাজ। সেই কাজে সমাজের মানুষ সাহায্য করতে পারে। শিক্ষকরা সাহায্য চাইতেও পারেন, যেন শিশুটি বড়ো হয়ে একজন দক্ষ শ্রমিক হতে পারে। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষার নামে পাঞ্জাবি টুপি পরিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো শিশুটিকে মানসিক ভাবে পঙ্গু এবং বড়ো হয়ে অপরাধ প্রবণতার দিকে ঠেলে দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।     
চোখের সামনে এইসব দেখে-শুনে আর কতকাল চোখে ঠুলি পরে থাকবো আমরা? এই ধরনের অপশিক্ষার আওতায় লক্ষ লক্ষ শিশুর ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। অথচ আমাদের দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট অভাব এখনো রয়ে গেছে। দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা বিশ্ব জুড়ে। তারা মানব সম্পদ হিসেবে দেশের উন্নয়নে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পারে। দেশকে স্বনির্ভর করতে পারে। ছোটো ছোটো এই মেধাবী শিশুদের ঝুলি কাঁধে ভিক্ষা করতে দেখলে সুস্থ মানুষ হিসেবে একধরনের তাড়না বোধ হয়। কিছুই কী করার নেই! আমরা একবিংশ শতাব্দীতে আছি, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করা জাতি আমরা। স্বাধীন দেশ হিসাবে অর্ধশতক পারও করেছি। দেশে অনেক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে। বিজ্ঞান প্রযুক্তিতেও দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে আমরা নিশ্চয়ই পিছনে ফিরতে পারি না! আমাদের সম্পদ আছে, মেধা আছে, শুধুমাত্র অপসংস্কৃতি, গোঁড়ামি আর দুর্নীতি- অনিয়মের কারণে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ঝুঁকিতে থাকবে!  আমাদের শিশুরা ঝুলি কাঁধে ভিক্ষা করবে, এটা মেনে নেয়া খুব কঠিন। এই বিষয়গুলো নিয়ে চিন্তা করার বা সমাধান করার কী কেউ নেই? উত্তরটা জানার ইচ্ছা থেকেই যায়।


গ্রামের কাগজ ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন


সর্বশেষ সংবাদ
জিএম কাদের জাপা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না
ডেঙ্গুতে আরও ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪২৬
মৃত্যুহীন দিনে আরও ১৮ জনের করোনা শনাক্ত
সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলো চ্যাম্পিয়ন আবাহনী
মেহেরপুরে ফেনসিডিল ব্যবসায়ীর ৬ বছর কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গায় আগুনে তুলার কারখানা পুড়ে ছাই
ট্রেন আসতে দেখেও রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাণ হারালেন যুবক
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
১০ ডাকাত আটক
২৬ শর্তে বিএনপিকে অনুমতি
এক টেবিলে নাস্তা করলেন রওশন-কাদের
জরুরি বিভাগের দু’ ডাক্তারের খামখেয়ালিতে মৃত্যু শয্যায় একব্যক্তি
কালীগঞ্জ বেদে পল্লীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা নিহত
পলিথিন থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন করে চমক দেখালেন ইউসুফ
১০ ডিসেম্বর নিয়ে আওয়ামী লীগ তিনটি ভিন্ন কৌশল নিয়েছে
আমাদের পথচলা | কাগজ পরিবার | প্রতিনিধিদের তথ্য | অন-লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য | স্মৃতির এ্যালবাম
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন | সহযোগী সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০২৪৭৭৭৬২১৮২, ০২৪৭৭৭৬২১৮০, ০২৪৭৭৭৬২১৮১, ০২৪৭৭৭৬২১৮৩ বিজ্ঞাপন : ০২৪৭৭৭৬২১৮৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
কপিরাইট © গ্রামের কাগজ সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft