

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!
কাগজ ডেস্ক : হুমায়ূন আহমেদের দাফনের স্থান নিয়ে পরিবারের সিদ্ধান্তহীনতার মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানককে নিয়ে ধানমণ্ডির দখিন হাওয়ায় লেখকের বাড়িতে গেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল, সেখানে রয়েছেন লেখকের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।
নানক ও জাফর ইকবালের সঙ্গে রয়েছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর ও শাইখ সিরাজ।
সোমবার রাতে সংসদ ভবন এলাকায় নানকের বাড়িতে তারা এক দফা বৈঠকের পর রাত সাড়ে ১০টার পর দখিন হাওয়ায় যান তারা।
বৈঠকে হুমায়ুনের প্রথম স্ত্রীর তিন সন্তান নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ ও নুহাশ হুমায়ূন থাকলেও দখিন হাওয়ায় তারা যাননি।
স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন নুহাশ পল্লীতে হুমায়ূনকে সমাহিত করতে চাইলেও লেখকের প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলেছেন, নুহাশ পল্লীতে বাবার কবর তারা চান না।
প্রতিমন্ত্রীর বাড়ি যাওয়ার আগে সন্ধ্যার পর মিরপুরে চাচা আহসান হাবীবের বাড়িতে নোভা সাংবাদিকদের বলেন, তার বাবা বেঁচে থাকতেই বলেছেন, নুহাশ পল্লী কবরস্থান হোক- তা তিনি চান না।
“এই বিষয়ে ডকুমেন্ট আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা চাই, মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান বা অন্য কোথাও কবর হোক, নুহাশ পল্লীতে নয়। আমরা চাই, এমন একটা জায়গায় কবর হোক, যেখানে সবাই যেতে পারে।”
যত দ্রুত সম্ভব, হুমায়ূনকে দাফনের বন্দোবস্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন সন্তানরা। নোভা বলেন, “বাবাকে এই অবস্থায় দেখে আমাদের খুব খারাপ লাগছে।”
ওই বাড়িতে শীলা ও নোভার স্বামীরাও ছিলেন সেখানে। বিপাশা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।
আহসান হাবীবের বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে নোভা কথা বলার আগে হুমায়ূনের দাফন নিয়ে পারিবারিক আলোচনা হয়।
নোভার চাচি মুহম্মদ জাফর ইকবালের স্ত্রী ইয়াসমিন হক সাংবাদিকদের বলেন, “এরা হুমায়ূন আহমেদের সন্তান। কোথায় দাফন হবে, সে বিষয়ে তাদের স্ট্যান্ড (অবস্থান) আছে।”
তবে নোভাদের এই অবস্থান পরিবারের মিলিত সিদ্ধান্ত নয় জানিয়ে হুমায়ূনের ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল সাংবাদিকদের বলেন, “এই বিষয়ে পরিবারের সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।”
মিরপুরের বাড়িতে হুমায়ূন আহমেদের ভাই-বোন ও প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা থাকলেও ছিলেন না লেখকের দ্বিতীয় স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তিনি রয়েছেন হুমায়ূনের ধানমণ্ডির বাড়ি দখিন হাওয়ায়।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বামীর লাশ নিয়ে ফেরা শাওন শহীদ মিনারে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, হুমায়ূন মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন, তাকে যেন গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতেই দাফন করা হয়।
হুমায়ূন এক সময় নুহাশ পল্লীতে তাকে সমাহিত করার কথা বললেও অসুস্থতার সময় দেশে ফিরে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, কবরকে কেন্দ্র করে নুহাশ পল্লীতে মাজার তৈরি হোক তা তিনি চান না।
শাওন ও হুমায়ূনের দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিত এখনো শিশু। প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের গর্ভে জন্ম হুমায়ূনের চার সন্তান নোভা, শীলা, বিপাশা ও নুহাশের।
হুমায়ূনের ছোট ভাই আহসান হাবীব বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মায়ের ইচ্ছা, মিরপুর বা বনানীতে ভাইয়ের দাফন হোক।”
তবে শাওন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাকে সে বলেছে, যদি আমার কিছু হয় সবাই আমাকে নিয়ে টানাটানি করবে। তুমি আমাকে নিয়ে টানাটানি করতে দিয়ো না। তুমি আমাকে নুহাশ পল্লীতে নিয়ে যেও। ওই গাছগুলির কাছে আমাকে দিয়ে এসো।”
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শহীদ মিনারে হুমায়ূনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর্ব চলার সময়ই আলোচনায় বসেন লেখকের মা আয়েশা ফয়েজ, স্ত্রী শাওন, ভাই জাফর ইকবাল, আহসান হাবীবসহ পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু তাতে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে কোনো ঘোষণা দেননি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। তবে মঙ্গলবার দাফন হবে বলে জানান তিনি।
ক্যান্সারে আক্রান্ত হুমায়ূন ৬৪ বছর বয়সে গত ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে মারা যান। সোমবার সকালে তার মরদেহ দেশে আসে।
শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন এবং জাতীয় ঈদগাঁয় জানাজার পর নন্দিত এই লেখকের মরদেহ এখন বারডেমের হিমঘরে রয়েছে।

