

আসাদ বেহেস্তী
আসছে বাজেট অধিবেশন
চলবে লম্বা ভাষণ,
তারই আগে জনগণে
খাবে নানান কষন,
প্রথম কষণ ব্যবসায়ীদের
কারণ ছাড়াই তারা,
দাম বাড়াবে নিত্য মালের
হিসাব-নিকাশ ছাড়া!
কোচিং নিয়ে জল্পনা কল্পনা এবং গবেষণা বহুদিনের। কোচিং বাণিজ্য বন্ধ না করলে দেশ রসাতলে যাচ্ছে বলে কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। প্রকৃতপক্ষে পাঠদান বা শিক্ষা দেয়া একটি সেবাযজ্ঞ। বাণিজ্য হিসেবে বিবেচ্য নয়।
মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সুনাম সর্বজনবিদিত। উচ্চারণ আচরণ নিঃসন্দেহে শিক্ষামূলক। কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য চলমান রেজিমের শুরু থেকেই তিনি তৎপর। কিন্তু বন্ধ করতে পারেননি। কারণ বিজ্ঞানমনষ্ক বাস্তবতা। পাঠদান বা প্রতিধ্বনি সমূহ দেশব্যাপী সমমানসম্পন্ন নয়। স্কুলসমূহের পরিচালনা পরিষদগুলোও তথবৈচ। এই সংশ্লিষ্টতায় শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের ‘মাষ্টের’ বলতে কেউ কেউ কুণ্ঠাবোধ করেন না। বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের গড়পাঠ উপরিল্লিখিত চালচিত্রের বাইরে কল্পনা করা বিলাসিতা মাত্র।
শিক্ষার হার ক্রমবর্ধমান। কিন্তু রাতারাতি তুঙ্গে তুলতে পারার কথা বাতুলতা মাত্র। তবে দিন বদলের সরকার প্রণীত শিক্ষানীতি পাথেয় হিসেবে অনুসৃত হলে গন্তব্যে পৌছুতে অতি বিলম্ব হওয়ার কথা নয়। ছাত্র শিক্ষকের অনুপাত এই শিক্ষানীতিতে ১:৩০ ধরা হয়েছে। এই অনুপাত নিশ্চিত করতে সময় একটি অপরিহার্য বিষয়। সেক্ষেত্রে শিক্ষা সহায়তা কেন্দ্র রাতারাতি বন্ধ করলে শিক্ষা বাণিজ্য হয়তো বন্ধ হবে কিন্তু সার্বিক শিক্ষা শুভতা জাতীয় প্রবাহে সমুন্নত রাখা দুঃসাধ্য হয়ে উঠতে পারে।
এ কথা মাথায় রেখে শিক্ষকদের কোচিং অনুমোদন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হতে পারে। যদি স্কুলের ব্যবস্থাপনা পরিষদ এই পদক্ষেপ সকল ছাত্রের জন্য গ্রহণযোগ্যতায় নিশ্চিত করা যায়। তা না হলে সরকারি নির্দেশনায় স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্যের সুনামিতে গরিব ছাত্রবৃন্দ ভেসে যাবে। জনগণের প্রত্যাশা যেন সরকার রাতারাতি বাড়াবাড়ি কিছু না করে।

