http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

‘বিশ্ব বাবা দিবসে আমাদের করণীয়’
    A+ A A-

মুহম্মদ আলতাফ হোসেন : আজ ১৭ জুন ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। ১৯১০ সালের ১৯শে জুন ওয়াশিংটনের স্পোকান শহরে প্রথম বাবা দিবস পালিত হয়। পারিবারিক জীবনের প্রত্যয়ী পুরুষ বাবার প্রতি সম্মানে প্রতি বছরই বাবা দিবস পালিত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বেও দেশে দেশে বাবা দিবস পালন করা হয়। সে হিসেবে এ বছর বাবা দিবস ১৭ জুন।
আমেরিকান গৃহযুদ্ধের বীর সেনানী উইলিয়াম জ্যাকসন স্মার্ট’র সন্তান সনোরা লুইস স্মার্ট ডড এই দিবসটি পালনের সূত্রপাত করেন। সোনোরা লুইস ডডের মা সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে যখন মারা যান, তখন ডডের বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। আর ডডের বাবা উইলিয়াম জ্যাকসন সবে যুদ্ধ থেকে ফিরেছেন। তারপর থেকেই দেখেছে তার বাবা তাদের ছয় ভাইবোনকে মানুষ করার জন্য রাত-দিন কী কঠিন পরিশ্রমই না করছেন। তারা মায়ের অভাব বুঝতেই পারেনি। বাবাই ছিলেন তাদের সব কিছু। ১৯০৯ সালে ডডের বয়স যখন ২৭ বছর তখন দেখলেন মায়ের প্রতি ভালবাসা প্রকাশের জন্য একটি দিন আছে, যে দিনটি বিশ্বের প্রায় সবাই পালন করে। অথচ বাবার প্রতি ভালবাসা প্রকাশের কোন দিন নেই, যেন বাবাকে কেউ ভালোই বাসে না। ডড ভাবলেন মা দিবসের মতো বাবা দিবস থাকলে কেমন হয়! তিনি বাবা দিবস পালনের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে লাগলেন। আন্তরিক প্রচেষ্টা আর কঠোর পরিশ্রম যে সফলতার চাবিকাঠি সেটা আরেকবার প্রমাণিত হল। কারণ পরের বছর মানে ১৯১০ সালে ওয়াশিংটনের স্পোকান নামে ছোট্ট শহরে (ডডের নিজ শহর) কয়েকটি সংগঠনের উদ্যোগে পালিত হল বাবা দিবস। ১৯১৩ মার্কিন কংগ্রেসে আসে বিল। তারপর ১৯১৬ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এ দিবসকে সমর্থন করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট নিকসন বিলটি আইনে পরিণত করেন। সেই থেকে জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৮৭টি দেশ দিবসটি পালন করে। অবশ্য সব দেশ একই দিনে বাবা দিবস পালন করে না। এমনকি দেশভেদে বাবা দিবসের রীতিতেও রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। তবে বাবার প্রতি সম্মানের সবটুকু ঢেলে দিতেই পালিত হয় বাবা দিবস। আমাদের পরিবার তথা সমাজে বাবার যে গুরুত্ব তা আলাদাভাবে তুলে ধরাই বাবা দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য। সন্তানের জন্য বাবার ভালবাসা অসীম। বাবার রয়েছে একটি স্বপ্নÑ আর সেই স্বপ্নটি হল সন্তানের হাসিমুখ। এই হাসিমুখের জন্য জীবনের প্রতিটি পর্ব তিনি উৎসর্গ করেন। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের পরিবার প্রধান হচ্ছেন বাবা। পরিবারের নানান দায়িত্বের বোঝা থাকে তার কাঁধে। গুরুদায়িত্বের কারণে তাকেই সইতে হয় বাইরের সব রকম যন্ত্রণা। আবার ঘরের ব্যাপারাগুলোও ভুলে থাকলে চলে না। সন্তানকে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি তার সুশিক্ষিত হয়ে ওঠার দিকটিও তার নজরে রাখতে হয়। প্রধান হিসেবে পরিবারের সব ভালোমন্দের দায়দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়। সেই কঠিনতর কাজের প্রত্যয়ী পুরুষ বাবার প্রতি সম্মানে প্রতি বছরই বাবা দিবস পালিত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।
অপর দিকে সন্তানের জন্য পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালার পর সবচেয়ে আপন এবং শ্রদ্ধেয় তার বাবা-মা। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বাবা-মা সম্পর্কে বলেছেন, ‘আর তোমাদের প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত-আনুগত্য করো না এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করো, যদি তাদের একজন বা উভয়ই তোমাদের সামনে বার্ধক্যে উপনীত হন তবে তুমি তাদের প্রতি উহঃ (বিরক্তি বা দুঃখব্যঞ্জক) শব্দটিও বলো না এবং তাদের ধমক দিও না, বলো তাদেরকে শিষ্টাচারপূর্ণ কথা, তাদের সামনে ভালোবাসার সঙ্গে নম্রভাবে বাহু নত করে দাও, (আল্লাহ পাককে) বলো হে আমার মালিক! তারা (অর্থাৎ বাবা-মা) শৈশবে আমাকে যেভাবে আহ্লাল-যতেœ লালন-পালন করেছেন, তুমিও তাদের প্রতি সেভাবে সদয় হও। (সুরা : বনি ইসরাইল ২৩-২৪)। এ আয়াত দ্বারা সহজে বোঝা যায়, বাবা-মা যদি ইসলামবিরোধী আদেশ দেন তবে তা অমান্য করতে হবে, কিন্তু তাদের প্রতি অসদ্ব্যবহার করা চলবে না। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)। এ ছাড়া আরো বহু উদাহরণ মহাপুরুষদের জীবনীতে পাওয়া যায়। ইসলাম বাবা-মায়ের ব্যাপারে সন্তানকে এত সাবধান করার পরও দুঃখ হয়, যখন দেখি কোনো জালেম সন্তানের কাছে নিজ বাবা-মা তার নিষ্ঠুর দুর্ব্যবহারে মজলুম অথবা কোনো বাবা-মা সন্তানের অসৎ ব্যবহারের বিচার প্রার্থী হয় অথবা কোনো সন্তান তার জন্মদাতা বাবা-মাকে তিরস্কার করে কথা বলে। আবার বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। বাবা-মায়ের মর্যাদা বলতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত। তিনি আরো বলেন, বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি, বাবার অসন্তুষ্টিতে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। কাজেই বেহেশতে যেতে হলে অবশ্যই তাদের সেবা করতে হবে এবং তাদের অনুগত থাকতে হবে। তাই আসুন শুধু এক দিনের জন্য নয়, নাম সর্বস্ব নয়, বরং সর্বদা বাবার আদেশ মান্য করি, তাদের সন্তুষ্টি চিত্তে কাজ করি এবং যাদের বাবা বেঁচে নেই তাদের জন্য দোয়া করি, তবেই বাবার সত্যিকারের হক আদায় হবে। পৃথিবীর সব বাবার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন।
(মুহম্মদ আলতাফ হোসেন সাংবাদিক ও কলাম লেখক)