

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
মিলন কর্মকার রাজু, কলাপাড়া, (পটুয়াখালী) থেকে : কুয়াকাটা সৈকতের অব্যাহত ভাঙ্গনে আতংকিত হয়ে পড়েছে কুয়াকাটার বিনেয়োগকারী ও স্থানীয়রা। গত এক সপ্তাহধরে সাগরের অগ্নিমূর্তিতে কুয়াকাটার মূল সৈকতের প্রায় ঝাউ বাগান ও শুটকি পল্লী এলাকার প্রায় দেড়শ মিটার সৈকত ভেঙ্গে সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। সাগরের ভাঙ্গনের তান্ডবে প্রায় সহস্রাধিক ঝাউ ও নারিকেল গাছসহ কুয়াকাটা ইকোপার্কের বিভিন্ন পর্যটন স্থাপনা ও শতশত গাছ সাগর গর্ভে চলে গেছে। সাগরের ভাঙ্গনের নির্মমতা বেড়ে যাওয়ায় হুমকির মুখে রয়েছে ফয়েজ মিয়ার নারিকেল বাগানের অবশিষ্ট অংশ সহ কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধ।
সরেজমিনে গতকাল কুয়াকাটা ঘুরে দেখা যায়, সাগরের ভাঙ্গনের নির্মমতা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে সৈকতের বালুর স্তর এখন নেই বললেই চলে। বিস্তীর্ন সৈকতের প্রায় ৪/৫ ফুট বালুর স্তর ধুইয়ে সাগরে চলে যাওয়ায় বের হয়ে আসছে রং-বেরংয়ের মাটি। সৈকতের হঠাৎ পরিবর্তনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে প্রায় দুইশ বছর ধরে বাস করা স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনও।
স্থানীয় রাখাইন যুবক উইয়েন জানায়, গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরের পানি ক্রমশ উপকূলে আঘাত হানায় গোটা সৈকত এখন লন্ডভন্ড। সৈকতের সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে শতশত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের গোড়া। মূল সৈকত থেকে এক/দেড়শ কিলোমিটার পূর্বে গেলে যে কোন পর্যটক আঁতকে উঠবেন। এখানে ভাঙ্গনের প্রচন্ডতা এতটাই বেশি ছিল যে সৈকত জুড়ে বিশাল বিশাল এলাকাজুড়ে ৪/৫ ফুট মাটির ড্রেনের মতো স্তর বের হয়ে এসেছে। এখানে সৈকতের বালুর স্তর ধুইয়ে সাগরে চলে যাওয়ায় গোটা সৈকত এখন পিচ্ছিল ও বিশ্রী হয়ে গেছে।
কুয়াকাটায় ভ্রমনে আসা পর্যটক তনিমা ঘোষ ও আশীষ ঘোষ জানায়, পাঁচ বছর আগে কুয়াকাটায় এসেছিলাম। কিন্তু তখন কুয়াকাটার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ছিল অপরুপ। কিন্তু এবার এসে দেখলাম সৈকতের চারিদিকে এখন কেবল শূন্যদ্যান। সাগরের ভাঙ্গনের প্রবনতা বাড়লেও কেন সৈকত রক্ষা করা হচ্ছেনা তা ভেবে তারাও উদ্বিগ্ন।
কুয়াকাটা সৈকতের পর্যটকদের ভ্রমনের জন্য একাধিক মোটরসাইকেল চালক থাকলেও তারা এখন সৈকতে মোটরসাইকেল চালাতে চাচ্ছেন না। মোটরসাইকেল চালক ইব্রাহীম জানায়, সৈকতের যে অবস্থা এখন গাড়ি চালানো বিপদজনক। গত ১৫ দিনে এ সৈকতে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে বলে সে জানায়। এছাড়া সৈকতে বিপদজনক ভাকে বিভিন্ন গাছের গোড়া ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকায় পায়ে হেঁটে সৈকত ভ্রমনও বিপদজনক হয়ে গেছে। এছাড়া জোয়ারের সময় তো সব ডুবে থাকে। তখন পর্যটকদের রাস্তায় দাড়িয়েই সাগর দেখতে হয়। কুয়াকাটাকে ঘিরে কোটি কোটি টাকার সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ, নতুন নতুন বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হলেও কুয়াকাটার মূল সৈকতসহ সৈকত সংলগ্ন পর্যটন স্পটগুলো ক্রমশ সাগর গর্ভে বিলীন হতে চলছে। হুমকির মুখে পড়েছে কুয়াকাটা রক্ষা বাঁধ।
এ ব্যাপারে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চেীধুরী জানান, কুয়াকাটার উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাবনা আকারে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। মাষ্টার প্লানের আওতায় কুয়াকাটার উন্নয়ন করা হবে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো; শফিউদ্দিন সকালের খবর কে জানান, কুয়াকাটা সৈকতের ভাঙ্গন ঠেকাতে ১২ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের কারনে এখন সৈকতে কাজ শুরু করা না গেলেও আগামী মেীসুমে কুয়াকাটা সৈকত ভাঙ্গন রক্ষার কাজ শুরু হবে বলে জানান।

