

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শহীদুল ইসলাম শহীদ নিহত হয়েছেন, যাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘ডাকাত শহীদ’ নামে চেনে।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে লক্ষ্মীবাজার এলাকায় র্যাবের এই অভিযানে শহীদের এক সহযোগীও নিহত হয়েছেন।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের কমান্ডার এম সোহায়েল বলেন, দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফেরেন শহীদ।র্যাবের কাছে খবর ছিল, তিনি রোববার ঢাকা এসেছেন।
মঙ্গলবার রাতে শহীদ দলবল নিয়ে লক্ষ্মীবাজারে ঢুকবে- এমন খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা সেখানে আগেই ‘ফাঁদ’ পাতে।
সোহায়েল বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহীদ ও তার সহযোগীরা দুটি মোটরসাইকেলে করে লক্ষ্মীবাজারে ঢোকার সময় র্যাবের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে।এ সময় তারা পালানোর চেষ্টা করলে দুই মোটরসাইকেলের পেছনে বসা শহীদ এবং কালাম ওরফে কালু পড়ে যান। তারা র্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করলে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এতে শহীদ ও কালু ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
র্যাব সদস্যরা পরে ঘটনাস্থল থেকে দুটি পিস্তল উদ্ধার করে বলে সোহায়েল জানান।
আনুমানিক ৪২ বছর বয়সী শহীদের বিরুদ্ধে স্বর্ণব্যবসায়ী প্রেমকৃষ্ণ হত্যাকাণ্ডসহ দুই ডজন হত্যা মামলা রয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি লঞ্চডাকাতির ঘটনায় মুন্সীগঞ্জের ছেলে শহীদের নাম অপরাধীর তালিকায় উঠে আসে ঊনিশশ আশির দশকের শেষভাগে। নব্বইয়ের দশকে কোনো এক সময় ঢাকায় এসে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলে সে। ডাকাতি, চাঁদাবাজী, অপহরণ, টাকার বিনিময়ে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার এই আসামি পরিচিতি পায় ডাকাত শহীদ নামে।
এক পর্যায়ে পালিয়ে বিদেশে চলে গেলেও সেখান থেকেই সহযোগীদের মাধ্যমে ঢাকায় চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পারিচালনার অভিযোগ রয়েছে শহীদের বিরুদ্ধে।
এদিকে ‘ডাকাত শহীদের’ মৃত্যুর খবরে লক্ষ্মীবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মানুষ আনন্দ মিছিল করেছে।কয়েকজন ব্যবসায়ী মিষ্টিও বিতরণ করেছেন।

