

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!
কাগজ ডেস্ক : বাংলাদেশের রফতানি বাড়াতে হলে বাণিজ্য কৌশল ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অধিক জনশক্তি সৃষ্টি করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারের শ্রমমান বিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল বুধবার বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ রপতানি সুদৃঢ় ও তরানি¦তকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
ইকোনমিক রিসার্চ গ্র“পের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। প্রতিবেদনটি তৈরি করেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ সঞ্জয় কাঠুরিয়া ও অর্থনীতিবিদ মো: আবুল বাশার।
অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়াতে হলে রফতানি বাড়াতেই হবে। তৈরি পোশাক খাতে শুধু নিম্ন বেতন ভাতা একমাত্র সমস্যা নয়, অবকাঠামো সমস্যাও রয়েছে।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, রফতানি বাড়াতে পণ্যের বৈচিত্র্য আনা জরুরি। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাতে রফতানি বাড়ানোর বিশাল সুযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্যতম সামর্থ্য তৈরি পোশাক রফতানি অদূর ভবিষ্যতে ও মধ্য মেয়াদে গুরুত্ববহ হয়ে থাকবে। সার্বিকভাবে রফতানি বাড়ানোর জন্য কেবল তৈরি পোশাক খাতে বিদ্যমান সামর্থ্য সংহত করেই নয় বরং অধিক দামের তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য রফতানি খাতে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে বাণিজ্য কৌশল উন্নয়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শ্রমমান প্রতিপালন সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যা রফতানি ক্ষেত্রে বিদ্যমান সামর্থ্য সুসংহতকরণে সহায়ক হবে এবং অধিকতর লাভজনক ও অধিকমানের পণ্যের দিকে অগ্রসরে সাহায্য করবে। প্রতিবেদনে তথ্যপ্রযুক্তি সেবাখাতে জোর দেওয়ার সম্ভাবনাগুলো দেখা হয়েছে। এ খাতটি সারাবিশ্বে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে বলে উচ্চ মানের চাকুরির সুযোগ দিতে পারে।
বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং রিপোর্ট প্রস্তুতকারী সঞ্জয় কাঠুরিয়া বলেন, তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যয় সুবিধা তৈরি পোশাক খাতে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য পর্যাপ্ত নাও হতে পারে। পণ্যের আমদানি-রপ্তানি যথাসময়ে জাহাজীকরণ, ব্যয় সাশ্রয়ী ও নির্ভরশীল উপায়ে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যমান সামর্থ্যরে ক্ষেত্রগুলোতে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। শুল্ক প্রক্রিয়ার উন্নয়ন, আকাশপথে পণ্য পরিবহন সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং রেল সেবা উন্নয়ন দেশের বাণিজ্য কৌশলের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে।
তিনি বলেন, দক্ষতার ঘাটতি তৈরি পোশাক খাতে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য খাতের চাহিদা ভালোভাবে মেটানোর লক্ষ্যে এসব প্রশিক্ষণের প্রাসঙ্গিকতা বাড়ানো দরকার। প্রশিক্ষণার্থীর প্রয়োজনভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন। যেহেতু বাংলাদেশ অধিকহারে মূল্যবান তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছে তাই শ্রমমান ও কাজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বিধি প্রয়োগ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানির জন্য নিজেদের শ্রম ও ভবন মান বিধি প্রতিপালনের বিষয়টি ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রিপোর্টের প্রণেতা বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মো: আবুল বাশার বলেন, সুস্থ ও নিরাপদ কাজের পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সরকারকে আরও নিবিড়ভাবে ব্যক্তিখাতের সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বস্ত্র কারখানাগুলোকে আবাসিক এলাকা থেকে শিল্প এলাকার নিরাপদ ভবনে স্থানান্তরে সহায়তা দিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য আরও অনেক কিছু করার রয়েছে। এ খাতে এক বা একাধিক নিরাপদ বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে।

