

আসাদ বেহেস্তী
আসছে বাজেট অধিবেশন
চলবে লম্বা ভাষণ,
তারই আগে জনগণে
খাবে নানান কষন,
প্রথম কষণ ব্যবসায়ীদের
কারণ ছাড়াই তারা,
দাম বাড়াবে নিত্য মালের
হিসাব-নিকাশ ছাড়া!
কাগজ ডেস্ক : গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে ২০১২-১৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যকরি সভাপতি মইন উদ্দিন খান বাদল বলেছেন, ক্ষমতা আমাদের দারুণ অহঙ্কারী করে তুলেছে। এ অহঙ্কার পতনের কারণ হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আপনি (সরকার) নিজেই তো আন্তর্জাতিক বিবাদের দিকে যাচ্ছেন। বাপেক্স যদি এখনো অযোগ্য হয় তবে তাকে যোগ্য করুন। তারপর সমুদ্রের খনিজ সম্পদ উত্তোলন করুন।
তিনি বলেন, আমাদের আইন-থানা-পুলিশ বিত্ত নির্ভর। পুলিশ বিত্তের মোহে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারি কর্মচারিরা দেদারসে রাজনীতি করছে। আমরা কিছুই বলতে পারছি না।
দেশের খনিজ সম্পদ উত্তোলনের সুযোগ বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার সমালোচনা করে বাদল বলেন, “নিজের জ্বালানি রেখে দুনিয়ার সামনে ফকির সাজার দরকার কি? কয়লা যেমন ভবিষ্যতের জন্য রেখে দিয়েছেন তেমনি সমুদ্রের খনিজ সম্পদও রেখে দিন। সেটা না করে কনোকো ফিলিপসের মতো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছেন। এক কনোকো ফিলিপসের মতো আরো ‘ফিলিপস’ আসবে। ওদের রক্ষা করতে সপ্তম নৌ-বহর আসবে। তাদের দেখে চীন-ভারত আসবে।”
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উন্নয়ণ সম্পর্কে তিনি বলেন, “বাজেটে প্রায়োরিটির অভাব রয়েছে। সাড়ে তিন বছরেরও এ রাস্তাটি করতে পারলাম না। এটা নিয়ে কোনো যুক্তি শুনতে চাই না।”
ঢাকা ও চট্টগ্রামের ফুটপাত ফাঁকা করতে না পারায় যোগাযোগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে এই বাম নেতা আরো বলেন, আমরা উড়াল পথ- পাতাল পথ অনেক কিছুই করবো। উড়াল পথে গাড়ি দ্রুত যাবে, তাতে সাধারণ মানুষের কিছুই যায় আসে না। অথচ আমরা ফুটপাত ঠিক করতে পারছি না।
তিনি বলেন, যে দেশের পুলিশ ফুটপাত ঠিক করতে পারে না, সেই পুলিশ রেখে লাভ কি? বন্ধ করে দিন। বৃক্ষ আচ্ছাদিত ফুটপাত তৈরী করুন।
বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি করে এই মহাজোট নেতা বলেন, “বড়ির মালিকদের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ঠ। আইন আছে কিন্তু কেউ মানে না। বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তৈরি করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাদল বলেন, বাজেটে ভুল তথ্য দেওয়া ঠিক নয়। বাজেট বক্তৃতায় ৫৪ পাতায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় ৫টি ওভারব্রিজের কাজ চলছে। অথচ চট্টগ্রামের বহদ্দার হাটে মাত্র একটি ওভারব্রিজের কাজ খুব ধীর গতিতে চলছে।

