

আসাদ বেহেস্তী
আসছে বাজেট অধিবেশন
চলবে লম্বা ভাষণ,
তারই আগে জনগণে
খাবে নানান কষন,
প্রথম কষণ ব্যবসায়ীদের
কারণ ছাড়াই তারা,
দাম বাড়াবে নিত্য মালের
হিসাব-নিকাশ ছাড়া!
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পাকিস্তানের পশতু ভাষার বিখ্যাত গায়িকা গাজালা জাভেদকে খুন করলো দুষ্কৃতীরা। ঘাজালার সঙ্গেই খুন হয়েছেন তার বাবা মুহম্মদ জাভেদও। সোমবার সন্ধ্যাবেলা ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর পশ্চিম পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে। দুটি মোটরবাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে খুন করে দুজনকে। এই গুলি চালনার সময় কোনোক্রমে বেঁচে গেছেন গাজালার ছোট বোন ফারহাত । সোমবার পুলিশ এখবর জানিয়েছে। পাক পুলিস গাজালার স্বামীকে এই খুনের পিছনে সন্দেহ করেছে।এদিন পুলিস জানিয়েছে, ওইদিন সন্ধ্যাবেলা শহরের দাবগারি বাজারের ব্যস্ত এলাকা মোহাল্লাহ্ নৌঅঞ্চলে গুলি চালিয়ে খুন করা হয়েছে। গাজালার পরিবার সূত্রে পুলিসকে জানানো হয়েছে, গাজালা ওই সময় বিউটি পার্লার থেকে বেরোচ্ছিলেন। সঙ্গে তার বাবা এবং বোনও ছিল। আচমকাই দুটি মোটরবাইকে করে আসা দুষ্কৃতীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে। ২৪ বছরের গাজালাকে দুষ্কৃতীরা ৬টি গুলি করে। তার বাবার মাথায় একটি গুলি লাগে।
পুলিশ কর্মকর্তা দিলাওয়ার বাঙ্গাশ জানিয়েছেন, গুলি বৃষ্টি করেই দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। পশতু ভাষার শিল্পী হিসেবে গাজালা যথেষ্ট বিখ্যাত ছিলেন। উত্তর পশ্চিম এলাকার মানুষের মধ্যে খুবই জনপ্রিয় ছিল তার গান। দু’ডজনেরও বেশি অ্যালবাম রয়েছে তার।
আদতে সোয়াত উপত্যকার বাসিন্দা ঘাজালা ২০০৯ সালে পালিয়ে এসেছিলেন। ২০১০ সালে ঘাজালা বিয়ে করেন পেশোয়ারেরই ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর খানকে। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই গাজালা জানতে পারেন জাহাঙ্গীরের আরো একজন স্ত্রী আছেন। ঘাজালা তা মেনে নিতে চাননি। উপরন্তু জাহাঙ্গীরের গাজালার গান গাওয়ার ব্যাপারে জোরালো আপত্তি ছিল। সেই চাপে কিছুদিন গাজালা গানের জগৎ থেকে সরে যেতে বাধ্যও হন। কিন্তু স্বামীর কাছ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ চাওয়ার পর বাবার কাছে ফিরে আসেন এবং আবার গানও শুরু করেন।
পুলিশেরর ধারণা স্বামীর সঙ্গে এই বিবাদের জেরেই গাজালাকে সম্ভবত খুন হতে হয়েছে। এই খুনের পিছনে জাহাঙ্গীরের হাত আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। অপরদিকে গাজালাকে যে তালিবানরাও হুমকি দিয়েছিল সে বিষয়ে পুলিশ বিশেষ কিছু মন্তব্য করতে চায়নি।
সম্প্রতি পাকিস্তানের দুর্গম এলাকা খাইবার-পাখতুনে পাঁচজন মহিলাকে জীবন্ত জ্বালিয়ে খুন করা হয়। কারণ তারা পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পুরুষদের সামনেই তাদের সঙ্গে গান গাইছিলেন এবং পুরুষদের নাচ করার সময় হাততালি দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র এই অপরাধে তাদের নৃশংসভাবে খুন করা হয়। বস্তুত এই অংশে তালিবানদের দাপট এতোটাই বাড়ছে যে সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের বহু গায়ক, শিল্পীকে খুন হতে হয়েছে তাদের হাতে। শিল্পীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবানরা। তালিবানদের এই হুঁশিয়ারির বিরুদ্ধে পাক সরকার শিল্পীদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। ফলে দেশের এই উত্তর পশ্চিম ভাগ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন অনেক শিল্পী।

