http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
মানুষ মারার রাজনীতিতে
নেইতো কোনো দর্শন,
কিংবা গাড়ি ভাঙ্গা এবং
গুলি-বোমা বর্ষণ।
তবু যারা মানুষ মারে
চলে মহান নীতিতে,
তাদের দলে আমিতো নেই
কোনো রকম প্রীতিতে!

ফ্রান্স সিরিয়ার ওপরে নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে চায়
    A+ A A-
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়া যে গৃহযুদ্ধের পথেই হাঁটছে তা নিয়ে বিশ্ববাসী সহ সব মহলের কোনো সন্দেহ নেই। সেদেশে বিদেশি সেনা এবার ঢুকবে কিনা, তাই নিয়ে প্রশ্ন শুরু হয়ে গেছে। ফ্রান্স চায় আরও নিষেধাজ্ঞা চাপাতে। আবার চীনের তাতে ঘোর আপত্তি। নিষেধাজ্ঞা বাড়ানো হোক আর চাপ দেওয়া হোক সিরিয়ার ওপর, এমনটা চায় না তাদের ‘মিত্র দেশ’ বলে পরিচিত চীন। অন্যদিকে, পশ্চিম দুনিয়া চায় না কোফি আনান’এর ছয় দফা প্রস্তাব মুখ থুবড়ে পড়ুক। যে ব্যাপারে মুখ খুলল প্রথম ফ্রান্স। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ফাবিউস’এর প্রস্তাব খুব খোলামেলা। তিনি বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরবর্তী বৈঠকে সিরিয়ার ওপর আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব আনবে ফ্রান্স। এখানেই থেমে থাকছে না ফ্রান্স। তাদের বক্তব্য, সিরিয়ায় আসাদের সেনাবাহিনী যেভাবে বিপ্লবীদের ডেরায় এবং সাধারণ নাগরিকের ওপর বিমান হামলা চালাচ্ছে, সেটার জবাব দিতে সিরিয়ার আকাশে আন্তর্জাতিক বাহিনীর ‘নো ফ্লাই জোন’ কিংবা উড়াল নিষেধাজ্ঞা নিয়েও এবার কথা বলার সময় এসেছে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সিরিয়ায় সেনা পাঠানোর ইঙ্গিতকে সমর্থন করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা আবার অন্য দিকে। তারা বলছে, রাশিয়া যেভাবে সিরিয়ান সেনাবাহিনীকে হেলিকপ্টার দিয়ে সহায়তা করছে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এর ওপরে যে সমস্যাটি আসলে বেশি জোরদার তা হল, সিরিয়ার ওপরে বাড়তি চাপ এবং নিষেধাজ্ঞা। সিরিয়ার মিত্র দেশ চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের মুখপাত্র লিউ বাইমিং সিরিয়া প্রসঙ্গে চীনের মনোভাব সাফ জানিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। জাতিসংঘের প্রাক্তন মহাসচিব কোফি আনান’এর ছয় দফা শান্তি প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষেই চীনের মত। বাইমিয়াং আরও জানিয়েছেন, সিরিয়ার ওপরে আরও বেশি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিষয়ে চীনের আদৌ মত নেই। তারা চায় না বেশি করে সমস্যার মধ্যে ফেলা হোক আসাদ প্রশাসনকে। বরং আলোচনার পথে এই সমস্যার সমাধানসূত্র খুঁজে বের করুক আন্তর্জাতিক মহল। আনান’এর শান্তি উদ্যোগের যে কোনো সুফল ফলে নি - তা বোঝা গেছে হুলা আর আল-হাফা শহরে মূলত নারী আর শিশুদের নির্বিচারে গণহত্যার ঘটনায়। এখানেই আবার দেখা যাচ্ছে অন্য সমস্যা। আর তা হল, সিরিয়ার অভ্যন্তরে বিদেশি সেনা পাঠিয়ে সেদেশের পরিস্থিতি ঠিকঠাক করা নিয়ে। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফাবিয়াস’এর মতে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনানের ছয় দফা পরিকল্পনার সঙ্গে আরও একটি দফা জুড়ে দেওয়া দরকার। যাতে বলা হবে, সিরিয়ার ওপরে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞার কথা। আর আন্তর্জাতিক মহলের দায়িত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ফাবিয়াস’এর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক সিরিয়ার পরিস্থিতি সামলাতে সেনা প্রেরণের চিন্তাভাবনা এবার করার সময় এসেছে। আসাদ বিরোধীদের সামরিক পথে সমর্থনের এই প্রস্তাব দিয়ে ফাবিয়াস বলছেন, যারা এটা বুঝতে বা গ্রহণ করতে দেরি করছে, তারা আসলে আরও বেশি মৃত্যু আর সহিংসাকে ডেকে আনছে। ফাবিয়াস কোনো নাম নেন নি ঠিকই, কিন্তু তাঁর ইঙ্গিত যে সিরিয়ার মিত্র বলে পরিচিত চীন আর রাশিয়ার দিকেই, সেটা বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।