http://www.gramerkagoj.com/

আর্কাইভ

আসাদ বেহেস্তী
নিম্নের চাপ শেষে
লঘুচাপ আসছে,
তার চাপে কৃষকের
ফসলটা ভাসছে।
ভেসে যায় ঘর-বাড়ি
ভেসে যায় সম্বল,
রিলিফেতে মেলে রুটি
আর দু’টো কম্বল!

বীর বিক্রম শাফায়াত জামিল আর নেই
    A+ A A-

কাগজ ডেস্ক : বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল অব. শাফায়াত জামিল বীর বিক্রম শনিবার প্রথম প্রহরে নগরীতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

বীর মুক্তিযোদ্ধার ছোটভাই সাদাকাত জামিল জানান, রাত ২টা ১০ মিনিটে নগরীর এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, উত্তরার বাড়িতে জামিলের বুকে ব্যথা হওয়ায় তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু তার অবস্থার অবনতি হলে মাঝপথে তাকে এ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়।

জামিল ১৯৭১ সালে ২৬ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী নেতৃস্থানীয় বাঙালি সামরিক কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন ছেলে রেখে গেছেন। তাদের মধ্যে দুজন আমেরিকায় বসবাস করেন। তার ছোট ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জামিলের প্রথম নামাজে জানাজা উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের কাছে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে সেনাবাহিনী তার মরদেহ ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে আসবে। সেখানে আল্লাহু মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাকে সেনাবাহিনী কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ২৬ মার্চ কালোরাতে তাদের কুখ্যাত অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরু করলে জামিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অনুসারী ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের (ডাকনাম বেবী টাইগারস) বাঙালি সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিকদের নিয়ে বিদ্রোহ করেন।

তিনি অক্টোবরের ১০ তারিখ পর্যন্ত ১১ নম্বর সেক্টরে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। পরে তিনি সিলেট সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

স্বাধীনতার পর জামিল লে. কর্নেল পদে পদোন্নতি পান এবং বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত হন। ১৯৭৪ সালে কর্নেল হিসেবে ৪৬ পদাতিক ব্রিগেডে ব্রিগেড কমান্ডার নিযুক্ত হন। তিনি ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর সেনাঅভ্যুত্থানে ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের সহায়তা করেন এবং খন্দকার মোশতাক আহমদের শাসনের বিরুদ্ধে বঙ্গভবনের দিকে অগ্রসর হন।
৭ নভেম্বর তার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং খালেদ মোশাররফ নিহত হন। কর্নেল জামিল গ্রেফতার হন এবং তাকে অবসরে পাঠানো হয়।

জামিল সাবেক সরকারি কর্মকর্তা এ এইচ করিমুল্লাহর ছেলে। তিনি ১৯৪০ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাকুলের পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি পাক সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

হট নিউজ -এর সকল খবর